সফল কৃষি উদ্যোক্তা ফটিকছড়ির তৌহিদুল আলমের কুল চাষে সফলতা
ছিলেন এনজিও কর্মকর্তা। উক্ত পেশা ছেড়ে শুরু করলেন কৃষি কাজ। গড়ে তুলেন ফলজ বাগান। বাগানে নানা ফলমূল চাষের পাশাপাশি পরিত্যক্ত জমিতে কুল চাষ করে ব্যাপক সফলতা লাভ করেছেন ফটিকছড়ির তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৌহিদুল আলম।
৮ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা তাঁর কুল চাষের প্রজেক্টে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান বল সুন্দরী কুল, কাশ্মিরী কুল, থাই কুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাধু সব কুল। স্থানীয় ভাষায় এসব কুলকে বড়ই বলা হয়। শুধু কুল নয় তাঁর এই প্রজেক্টে রয়েছে ফিলিপাইনি গেন্ডারি যা আঁখ নামে পরিচিত। দেশীয় কলা এবং পেয়ারা।
একটি বেসরকারী সংস্থা (এনজিও)তে চাকুরী করতেন তৌহিদ। পরের অধীনে চাকুরী করাটা তিনি মানষিকভাবে মেনে নিতে পারছিলেননা। সিদ্ধান্ত নিলেন নিজে কিছু করবেন এবং মানুষকে নিজে চাকুরী দিবেন। সেই চিন্তা থেকে এনজিও’র চাকুরীছেড়ে বাড়ীতে এসে প্রথমে কিছু জমি বর্গা নিয়ে শুরু করলেন পেপে চাষ। ২০১৫ সালে পেপে চাষ করে বন্যার কারণে শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়লেন তৌহিদ। এতে করে পরিবারের লোকজন তাকে প্রচন্ড তিরস্কার করতে লাগলেন। কিন্তু থেমে যাননি তিনি। পরের বছর ২০১৬ সালে একই জমিতে আবারো পেপে চাষ করলেন। সে বছর তৌহিদের ভাগ্য খুলে গেল। পেপে চাষ করে সফলতার মুখ দেখলেন তিনি। প্রথম বছরের ক্ষতিও পুষিয়ে নিলেন। পরের বছর জমির মালিক তাঁকে আর সেই জমি পেপে চাষ করতে দিলেননা। এর পর তিনি সেই জমির পাশেই নিজেদের পরিত্যক্ত জমিকে বেছে নিলেন কৃষি প্রজেক্ট করার জন্য। মাত্র ৮ বিঘা জমি তাদের। অনলাইন প্রশিক্ষনের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চারা সংগ্রহ করলেন। হাটহাজারীর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কৃষিবিদ মামুনের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে শুরু করলেন কুল চাষ। ছয় বছর বয়সী তাঁর এই প্রজেক্টে বর্তমানে রয়েছে কয়েক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির কুল গাছ।
তৌহিদ জানান, হতাশা থেকে শুরু করলেও এখন তিনি আর হতাশ নন। নিজের এই কৃষি প্রজেক্টে এখন প্রায় ৮/১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। প্রতিদিন জেলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসুক লোকজন তাঁর এই কৃষি প্রজেক্ট দেখতে আসেন। তৌহিদ বলেন, হালাল ভাবে নিজের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও। চাকুরী ছাড়ার কারণে পরিবার থেকে প্রথম দিকে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল সেটাও এখন আর নেই। তার কৃষি প্রজেক্টের সফলতা দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে এখন পুরোদমে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।
সফল এই কৃষি উদ্যোক্তা তৌহিদ বলেন, সব কিছু অনুকুলে থাকলে এবছর তাঁর প্রজেক্ট থেকে ১৪ টন কুল বিক্রি করতে পারবেন তিনি। ৮ বিঘার প্রজেক্টে এ পর্যন্ত তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। সব ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে ৬ লাখ টাকারও বেশী আয় হবে বলে জানান তিনি। তৌহিদ বলেন মূলত স্মার্ট কৃষি নিয়েই কাজ করছেন তিনি। এ জন্য অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন আধুনিক কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষন গুলো অনুসরন করেন বলে জানান।
তৌহিদের বড় ভাই পল্লি চিকিৎসক শফিউল আলম বলেন, চাকুরী ছেড়ে কৃষি কাজে আত্মনিয়োগ করে প্রথম বছরেই লোকসান গুনায় তৌহিদের প্রতি আমরা বিরক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন তাঁর প্রজেক্টের সফলতা দেখে আমাদের পুরো পরিবার আনন্দিত। নিজেরাও এখন বিভিন্ন সময় তাঁর কৃষি কাজে সহায়তা করি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো.জানে আলম বলেন, এলাকার শিক্ষিত যুবকরা আধুনিক স্মার্ট কৃষি কাজে এগিয়ে এসে নিজেরা স্বাবলম্বি হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে। এতে করে একদিকে যেমন এলাকার জমিগুলো কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে তেমনি এসব কৃষি প্রজেক্ট থেকে উৎপাদিত নানা প্রজাতির কৃষি পন্য স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশ ও বিদেশের বাজারেও রপ্তানি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় এখন শিক্ষিত তরুনরা কৃষি কাজে এগিয়ে এসেছে। এ বছর দুইজন তরুন কৃষক কৃষি পদক পেয়েছে। এসব তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদেরকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে।
এমএসএম / এমএসএম
সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতিফলন এই জাতীয় সংসদ
৫২০ নয়, কুমিল্লার জন্য বরাদ্দ ৫০০ কার্টন খেজুর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৪ মার্চ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু: প্রধানমন্ত্রী
কামারখন্দে ইউপি সদস্য মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর
কোটালীপাড়ায় ৫৮ প্রান্তিক জেলে পেল বকনা বাছুর, বিকল্প আয়ে নতুন আশার আলো
রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত আটক
সীতাকুণ্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১
সাভারে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত : থানায় দুই পক্ষের অভিযোগ
নরসিংদীর পলাশে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সবুজে ঘেরা চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার: প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য
গজারিয়ায় হাশেম প্রধান ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ
চেক ডিজঅনার মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ১৫মাস পর গ্রেপ্তার