ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

বর্ষায় মৃত্যু আতংকে সন্দ্বীপবাসী


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ২৫-৩-২০২৩ দুপুর ৩:৩৭

সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রাম নৌ-রুটে যাতায়াতের দুর্ভোগ সন্দ্বীপের জন্মলগ্ন থেকে। প্রতিদিন এই রুটে প্রায় ৪/৫ হাজার লোক যাতায়াত করে। বিভিন্ন কারনে এই উত্তাল সাগর পাড় হতে হয় মালবাহী ও স্পীড বোটের মাধ্যমে। যেগুলো অনেকটা ফিটনেস বীহিন ও অননুমোদিত। অন্যদিকে কূলে উঠানামায় ছিলো চরম দুর্ভোগ, ২/৩ কিলোমিটার কাঁদা মাড়িয়ে নৌ-যানে উঠতে হতো। সে কষ্ট লাঘবে ১০/১২  বছর আগে একটি  ব্যায়বহুল ব্রীজ নির্মাণ করলেও সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। পরে বিগত কয়েক বছর আগে মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরো একটি ব্যয়বহুল ব্রীজ তৈরি করলেও পল্টুন বিহীন হওয়াতে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেনা জনগন। তারপরও ইজারাদারের ব্যক্তি উদ্যোগে পল্টুনের পরিবর্তে  লম্বা কেওড়া কাঠের ব্রীজ নির্মান করলে কাঁদা মাড়ানোর বিড়ম্বনা অনেকটা কমে গেছে। কিন্তু মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে পল্টুন স্থাপনের পরিকল্পনা না নিয়ে ও সেবার মানসিকতা বাদ দিয়ে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোন থেকে ঘাট পরিচালনা করছে ইচ্ছেমতো। বারবার ইজারা প্রদান করছেন অতি উচ্চ মুল্যের খাস কালেকশনের মাধ্যমে। এতে করে ঘাটের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে নজর প্রদান বা নিরাপদ নৌ-যানের ব্যবস্থা না করায়, নানামুখী জটিলতা বা সিন্ডিকেটের কারনে ঘাটের দুর্ভোগ কমেনি আজও। অকটেনের দামের বৃদ্ধির কারন দেখিয়ে বারবার ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আবার কয়েকবার নৌ-দুর্ঘটনায় মৃত্যুুর মিছিল হয়েছে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। এরপর নানান আন্দোলন সংগ্রামের ফল স্বরূুপ এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার প্রচেষ্টায় বিআইডব্লিউটিসির নিয়ন্ত্রনাধীন একটি বিলাসবহুল জাহাজ এমভি আইভি রহমান  সন্দ্বীপ টু গুপ্তছড়া নৌ-রুটে প্রদান করা হয়েছিলো। যা প্রতিদিন দুইবার সন্দ্বীপ টু চট্টগ্রামে সার্ভিস প্রদান করতো। যার ফলে দুই দিক থেকে দুইবার করে মোট ৪ বার যাত্রীরা এর সুফল ভোগ করতো। উক্ত জাহাজ সাধারন যাত্রীদের কাছে আরাম দায়ক ও নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে আস্থার প্রতীকে পরিনত হয়েছিলো। খরচও ছিলো কম, কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে যাত্রী স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে সেটি মাত্র ১ ট্রিপ দেওয়া শুরু করলো, জনগনের সঠিক চাহিদা বা সময়ের ব্যবধানে নিরাপত্তার নিশ্চিত প্রচারনা চালালে যাত্রী বাড়ানো যেতো। কিন্তু  কোন ভাবে  যাত্রী বৃদ্ধির প্রচেষ্টা করা হয়নি বা  যাত্রীর চাহিদা নিরুপন করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের মর্জি মাফিক হয়ে গেলো এক ট্রিপ। এবং এমন বিদঘুটে সময় নির্ধারন করা হলো, যে সময় ঘুম থেকে উঠে জাহাজ ধরার আগেই জাহাজ পাড়ি জমায় চট্টগ্রামে। অবশেষে বাধ্য হয়ে জাহাজ ধরতে না পেরে যাত্রীরা স্পীডবোট বা মালবাহী বোটে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়, যাতে টাকা গুনতে হয় দ্বীগুন। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে সে যাতায়াত হয় চরম ঝুঁকিপুর্ন। তবে শীতের সিজনে নদী পথে যাতায়াত ঝুঁকি কমের কারনে যাত্রীরা সেটাতে সময়ের প্রশ্ন তুলে কম যাতায়াত করতো, সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু যখনি স্পীডবোট চলাচল সম্ভব হয়না বৈরি আবহাওয়ার কারনে, তখন জাহাজ ব্যতীত যাতায়াত মানে মৃত্যুকে ডেকে আনার সামিল। অপরদিকে যেসব যাত্রী একবার সে জাহাজে যাতায়াত করছেন তাদের কাছে একদিনেই এটি নিরাপদ ও বিলাসী যাতায়াত ব্যবস্থা হিসাবে আস্থার ঠিকানায় পরিনত হয়েছে । অন্য যাত্রীদেরও জাহাজে যাতায়াতের আহব্বান জানাতেন  তারা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সে চেষ্টা মোটেই করেনি। বরং সেটি না করার কারনে অনৈতিক বিষয় জড়িয়ে আছে বলে জানান সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলনের কর্মীরা। এদিকে আস্তে আস্তে উত্তাল হচ্ছে সাগর, বর্ষাও প্রায় আসন্ন। এখন থেকে প্রায় স্পীড বোট চলাচল থাকবে বন্ধ, চললেও তাতে থাকবে মৃত্যু ঝুঁকি। তাই ঝুঁকি এড়াতে এখন ৪ লক্ষ মানুষের চাহিদা জাহাজে যাতায়াত। তাই আসন্ন বর্ষার পুর্বে সে স্টিমার এমভি আইভি রহমান পুনরায় দুই ট্রিপ চালু করার জন্য সচেতন জনগনের পক্ষ থেকে স্যোশাল মিডিয়ায় ও সাংগঠনিকভাবে জোড়ালো দাবী উঠেছে। সে সব দাবী কর্তৃপক্ষের কানে প্রবেশ বা ডকুমেন্টারী  জানার পরও তাদের নতুন কোন সিদ্ধান্ত না আসায় আতংকিত হচ্ছে সমাজ কর্মী ও বিবেকবান জনসাধারন।এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান সহ আন্দোলন সংগ্রামেরও প্রস্তুতি চলছে। এ মুহুর্তে ৪ লক্ষ সন্দ্বীপবাসীর একটাই দাবী দ্রুত স্টিমার সার্ভিস দুই ট্রিপ করা ও সকাল বেলার সময় সুচী পরিবর্তন করা। না হয় নৌ-দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানীর আশংকা রয়েছে। 
সরেজমিনে এই জাহাজে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রী ও ইজারাদার থেকে জানা যায় এ জাহাজের অনেক সুবিধা সহ ঝুঁকি মোকাবেলায় রয়েছে বেশ কিছু প্রস্তুতিও। শুধু জাহাজে উঠা নামায় সামান্য কিছু বিষয় নিশ্চিত করলে এটি হচ্ছে সবচাইতে নিরাপদ মাধ্যম। যাত্রী ও ঘাট কর্তৃপক্ষ জানান এই জাহাজে ৩ প্রকারের সিট রয়েছে। প্রথমত ইকোনমি বা সাধারন সিট যার পুর্ব মুল্য ছিলো ৮০ টাকা, নৌকা ও টোল সহ মোট  ১২০ টাকা, দ্বিতীয়ত ফাস্ট ক্লাস বা স্লিপিং চেয়ার এসি সহ সর্বমোট ২৪০ টাকা এবং ২ টি সিট সহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি ভিআইপি কেবিন ১০৮০ টাকা। এদিকে বর্ষা আসার আগে বৃদ্ধি করা হয়েছে আবার জাহাজের ভাড়া।  জাহাজে সর্বমোট সিট রয়েছে ৫০০ টি । মালের ক্যাপাসিটি রয়েছে ১৫০ টন। অন্যদিকে রয়েছে চায়ের ২টি কেন্টিন, রয়েছে পর্যান্ত ওয়াস রুম, নিচ তলায় বাচ্চাদের দুগ্ধ পানের জন্য রয়েছে ব্রেষ্ট ফিডিং রুম, রয়েছে নামাজের জায়গা। এছাড়ার ঘুরাফেরার জন্য রয়েছে প্রচুর জায়গা। কর্মচারী রয়েছে ২৫ জন। উদ্ধার কাজের জন্য রয়েছে ৫শ যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বোট রয়েছে ২ টি, লাইফ বয়া ৬ টি,রয়েছে আগুন নির্বাপক যন্ত্রও। এ সমস্ত সুবিধা দেখে অনেক যাত্রী উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেন কিছু সময় বাঁচানোর জন্য মানুষ বেপরোয়া হয়ে অবৈধ নৌযানে চড়ে জীবনের ঝুঁকি নেয়। তাদের বুঝা উচিত সময়ের চেয়ে জীবনের মুল্য অনেক বেশি। সকলকে আমরা জাহাজে চলাচলের অনুরোধ সহ কর্তৃপক্ষের কাছে দুটি সি-ট্রাক ও পল্টুন স্থাপনের আহব্বান জানাচ্ছি। অন্যদিকে ইজারাদার মো. ইকরাম উদ্দিন ফরহাদ জানান, তিনি ইজারা নেন প্রতি ১ বছরের জন্য ৫% হারে টিকেট বিক্রির উপর কমিশনের ভিত্তিতে। কিন্তু দুই বছর ধরে লসে আছেন তিনি। কারন এতো সুবিধার পরও যাত্রীরা অজ্ঞাত কারনে কম যাতায়াত করে স্টিমারে তাই তারা একবার অনন্ত স্টিমারে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তবে পুরো ঘাটের নিয়ন্ত্রন নেই তার কাছে কারন তার মধ্যে যাত্রী কূলে ভেড়ানোর জন্য লাল বোট জেলা পরিষদের ইজারা দারের দায়িত্বে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে জাহাজ ছাড়ার জন্য অফিস অর্ডার আসে বিআইডব্লিউটিসি থেকে। রাফ ওয়েদার হলে ম্যাসেজ প্লাস অফিস অর্ডার হোয়াটআ্যাপে পাঠিয়ে দেন তারা। তাই ইজারাদের একক কোন হাত নেই জাহাজ ছাড়া বা না ছাড়ার উপর। ইজারাদার আরো জানান সি ট্রাক দেওয়ার যে প্রস্তাব বা আন্দোলন যাত্রীদের পক্ষ থেকে, সেই সি-ট্রাক খাল ড্রেজিং করে না দিলে কোন কাজেই আসবেনা। কারন এখানে চর এলাকায় সি-ট্রাক থেকে নামতে তলানী খুঁজে পাবেনা। এছাড়াও সি ট্রাক কূলে ভিড়তে কমপক্ষে ৩ ফিট পানি ও পাশে উচু পাড় লাগবে। তাই সেখানে খাল ড্রেজিং করে পল্টুন স্থাপনের কোন বিকল্প নেই। আবার স্থায়ী পল্টন করতে খাল কেটে নদীর ১ কিঃ মিঃ এর ভিতর খালের ২ পাশে গাইড ওয়াল এবং কমপক্ষে নদীর তলার সমান ৩০ ফিট গভীর ও দুটি সি ট্রাক মুভ করার জন্য ১ হাজার ফিট প্রশস্ত করে ড্রেজিং করলে নদীর তলার সমান হওয়ায় কখনো পলি জমবেনা।

সন্দ্বীপের স্যোশাল এক্টিভিট ও সু-শীল সমাজের প্রতিনিধি রেমিটেন্সযোদ্ধা  শামসুল আরেফিন শাকিল  জানান সব মিলিয়ে এখনো চলমান ব্যবস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপদ যাতায়াত মাধ্যম এমভি আইভি রহমান জাহাজ। দ্রুত এই জাহাজ সার্ভিস পুর্বের মতো দুই ট্রিপে পরিনত করা না হলে সব দুর্ঘটনার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষ নিতে হবে।

এমএসএম / এমএসএম

ভূরুঙ্গামারীতে বিদেশে পাঠিয়ে উপকার করার পর হুমকি ও মারধরের অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে স্বপ্নময় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ

গলাচিপায় গণভোট জনসচেতনতায় ওপেন এয়ার কনসার্ট

সরিষাবাড়িতে আইন-শৃংখলা ও মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়ায় গণভোট সচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অবহিতকরণ সভা

ঠাকুরগাঁওয়ে তিন লাখ টাকার ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনী যথা যথ ভূমিকা পালন করবে: নৌবাহিনী প্রধান এম নাজমুল হাসান

মাদারীপুর জেলা শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা

নোয়াখালীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

সংস্কার ইস্যুতে গণভোট নিয়ে অজ্ঞতা: মনপুরায় নেই তেমন প্রচার-সচেতনতা

জয়পুরহাটে ০১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা

ঘোড়াঘাটে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা,গুলিবর্ষণ;গ্রেপ্তার-৫

চাঁদপুরে বাসি খাবার সংরক্ষণ করায় হোটেল মালিকের জরিমানা