মুন্সিগঞ্জে পিতাকে হত্যার দ্বায়ে ছেলে গ্রেফতার
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে বাবাকে হত্যার অভিযোগে জড়িত তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ । এ নিয়ে ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ২ টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান আল মামুন ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় , পারিবারিক কলহের জের ধরেই ৯ এপ্রিল উক্ত হত্যা কান্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো.নুরুল ইসলাম হাওলাদার (৪৭)। তিনি আদারা ইউনিয়নের ভাষানচর মিজিকান্দি এলাকার প্রয়াত সুবেদ আলীর ছেলে।পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রী ছিলেন। নুরুল ইসলামের স্ত্রীর নাম তাছলিমা বেগম। এ দম্পতির পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
৯ এপ্রিল সকালে স্বামি নুরুল ইসলাম হালদারের সাথে তার স্ত্রী তাসলিমা বেগমের মাঝে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে নুরুল ইসলাম তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম কে মারধর করে।মারধরের এক পর্যায়ে তাসলিমা বেগম মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তার মেয়ের বাসায় চলে যায় । এ ঘটনায় বাবার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুল ইসলামের বড় ছেলেরা তাকে ( পিতাকে ) মারধোর করার জন্য খোঁজাখুঁজি করে। সোমবার রাত ৩ টায় নুরুল ইসলামের বড় ছেলে মো. সুমন , রাসেল ও মো. আলি মিলে তার বাবা নুরুল ইসলামের উপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে । বড় ছেলে সুমন হালদার প্রথমেই তার বাবাকে মাথায় কোপ দেয় । দুই ছেলে মো. আলি ও রাসেলের সহযোগীতায় নৃসংশ ভাবে নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এ দিকে হত্যা কান্ডকে মিথ্যে নাটক সাজানোর চেষ্টা করে তার তিন ছেলে। পিতা নুরুল ইসলামের নিজস্ব মাছ ধরার নৌকা আর জাল নিয়ে নদীতে যাওয়ার নাটক সাজায় তারা। জলদস্যুরা মেরে ফেলেছে বলে চিৎকার চেচামি করে এক পর্যায়ে জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় নুরুল ইসলামকে। জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে।
এ ঘটনায় অভিযোগের সুত্র ধরে তাৎক্ষনিক তদন্তে নামে জেলা পুলিশ ।মৃত নুরুল ইসলামের বসত ঘরের খাট থেকে রক্তের আলামত সহ বিভিন্ন আলামত পুলিশের সন্দেহের নজরে আসে। নুরুল ইসলামের ছোট ছেলের সাথে কথা বলে এবং মাছ ধরার নৌকায় রক্তের কোন আলামত না থাকায় ঘটনাটি সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে নিশ্চিত করে পুলিশ। তাৎক্ষনিক বড় ছেলে সুমন ও মো. আলিকে গ্রেফতার করা হয়।
এ দিকে মৃত নুরুল ইসলাম হত্যা কান্ডের ঘটনায় তার বোন হামিদা বেগম বাদি হয়ে থানায় মামলা করে। নিহতের বোন হামিদা বেগম বলেন, আমার ভাই একজন কাঠমিস্ত্রি। সে কখনো মাছ ধরতেন না। তাঁকে হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মাছ ধরার কথা বলা হচ্ছে। আমার ভাইকে আমার ভাতিজারা তাঁদের মামাদের সহযোগিতা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
গ্রেফতার হওয়া সুমন ও মুক্তার আলি পুলিশের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানা যায়। এক ছেলে রাসেল কে গ্রেফতারের চেস্টা চলছে বলে জানা যায়। চাঞ্চল্যকার এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ১৭ ঘন্টার মধ্যে উন্মোচিত করেছে জেলা পুলিশ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ) আদিবুল ইসলাম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) থান্দার খাইরুল ইসলাম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( ডিএসবি) ইয়াসিনা ফেরদৌস , সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুজ্জামানসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্য , প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা।
এমএসএম / এমএসএম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ
মেহেরপুরে সাংবাদিক কাজলের পৈতৃক ভিটা দখলের চেষ্টার অভিযোগ
বিলাইছড়িতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
ঝিনাইদহে সার ডিলারশিপ নিয়োগে সীমাহীন দুর্নীতি
সুবর্ণচরে ভূয়া চিকিৎসক রাসেলের অপচিকিৎসায় প্রাণ হারাতে বসেছে ১ শিশু
শিবগঞ্জে কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে ৪ জনের কারাদণ্ড
মধুখালীতে কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে রেলি ও আলোচনা সভা
কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নিয়োজিত ১ হাজার ৭১ কর্মী
বকশীগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর ঝোপে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীতে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
তেঁতুলিয়ায় ১০ কেজির বার্মিজ অজগর উদ্ধার