ভেদরগঞ্জে চায়না কমলা চাষে খলিলুর রহমানের সফলতা
পাহাড়ি এলাকার পরিবর্তে সমতল ভূমিতে কমলা চাষ করে সফল হয়েছেন শরীয়তপুরের খলিলুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিজিটরদের ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তার কমলা বাগান দেখতে দর্শনার্থীরা আসছেন।
প্রবাসী ছেলের পরামর্শে পরিত্যক্ত জমিতে নতুন মাটি ভরাট করে চায়না কমলার গাছ লাগিয়ে ভালো ফলন হওয়ায় গ্রামের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। গত বছর থেকে ফলন শুরু হলেও এবছরই ফলন হয়েছে বেশ ভালো। বাজারে চায়না কমলার চাহিদা বেশ ভালো থাকায় লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা তার। প্রথম দিকে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরণের পরামর্শ দিলেও এবছর কোনো খোঁজ খবর নেয়নি। খোঁজ খবর নিলে আরও ভালো হতো বলে দাবি খলিলুর রহমানের।
সম্প্রতি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের জাফর আলী মাল কান্দি গ্রামের খলিলুর রহমান মালের কমলা বাগানে দেখা যায় প্রতিটি গাছে ফলন হয়েছে। এসব গাছের চারা তিনি চুয়াডাঙা থেকে সংগ্রহ করেছেন।
স্থানীয় ও খলিলুর রহমানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী শামসুর রহমান অবসর সময়ে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখেন। ভিডিওতে হঠাৎ এক সময় দেখতে পান চুয়াডাঙার এক কৃষক বাণিজ্যিক ভাবে চায়না ফলের চাষ করেছেন। প্রবাসে থেকেই তিনি ওই কৃষকের সাথে যোগাযোগ করেন চারা সংগ্রহের জন্য। পরবর্তীতে বাড়িতে অবসর সময় কাটানো বাবা খলিলুর রহমান ও ছোট ভাই রোকন মালকে পরামর্শ দেন কমলার চারা সংগ্রহ করে রোপন করতে। এরপর ৩২ শতাংশ জমি বালু মাটি দিয়ে ভরাট করে ১৫০ টি চারা সংগ্রহ করে রোপন করেন তারা। এক বছরের পরিচর্যায় গত বছর থেকে ফলন হওয়া শুরু করে বাগানে। আত্মীয় স্বজন বেশি হওয়ায় গত বছর বাজারে বিক্রি করতে পারেননি। আত্মীয় স্বজনদের দিয়েও গত বছর এক লাখ টাকার কমলা বিক্রি হয়েছিল। এবছর গতবারের চেয়ে ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হওয়ার আশায় রয়েছেন খলিলুর রহমান ও রোকন মাল।

ফলের বাগানে ঘুরতে আসা আশিকুর রহমান হৃদয় বলেন, বিকেলে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম এখানে একটি কমলার বাগান। অনেককে ছবি তুলতে দেখে আমিও বাগানে এসেছি। অল্প একটু জায়গার মধ্যে এত কমলা হয় তা আমার ধারণা ছিল না। বিশেষ করে চায়না কমলা। এটা তো কল্পনার বাহিরে ছিল আমার। বাজারে যে কমলা পাওয়া যায়, তাতে ফরমালিন দেওয়া থাকে। এখন যেহেতু সখিপুরে মাটিতেই চায়না ফল চাষ হয়েছে। আগামি দিনে অল্প দামে এই বাগান থেকে ফরমালিন মুক্ত ফল কিনতে পারব। তরুণ বেকার যারা রয়েছেন, তারা চাইলে এমন বাগান করে বেকারত্ব দূর করতে পারেন।
ইমামুল নামে আরেকজন বলেন, ভেবেছিলাম বাজার থেকে কমলা কিনব। কিন্তু হঠাৎ করেই খবর পাই এই বাগান থেকে অল্প দামে ভালো কমলা ক্রয় করা যাবে। বাগানের কমলা খেয়েছি। কমলাগুলো বেশ মিস্টি। বাগানের মালিক থেকে কমলা কিনেছি।
সজিব নামে এক স্কুল শিক্ষার্থ বলেন, প্রথম যখন এখানে চারাগুলো রোপন করে, তখন ভেবেছিলাম জাম্বুরা গাছ। কিন্তু বড় হওয়ার পর এখন দেখতেছি এগুলো চায়না কমলা গাছ। অনেক দূর থেকে এখানে মানুষ আসে, ছবি তোলে। আমার কল্পনায়ও ছিল না যে আমার বাড়ির পাশে কমলা বাগান হবে। বাগানে ঘুরতে এলে আমার বেশ ভালোই লাগে।

ওহিদুল্লাহ নামে এক প্রবাসী বলেন, বিদেশের মাটিতে আমরা অনেক কষ্ট করি। ছুটিতে বাড়িতে এসে দেখলাম আমার বাড়ির পাশেই কমলার বাগান। বাগানটি দেখে আমার বেশ ভালো লেগেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ যদি বাগানটিকে সব সময় দেখাশোনা করত। তাহলে যে ফুলগুলো ঝড়ে গেছে, তা ঝড়ত না। ফলন আরও বেশি হত। আমার মত তরুণরা বিদেশের মাটিতে না গিয়ে দেশেই এমন ফলের বাগান করে সাবলম্বী হতে পারত। কৃষি বিভাগের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন এই বাগানটিকে দেখাশোনা করেন। তাহলে অনেক তরুণ এমন বাগান করতে উদ্ধুদ্ধ হতো।
বাবার সাথে ফলের বাগানটির পরিচর্যা করা রোকন মাল বলেন, সৌদি আরব প্রবাসী ভাই শামসুর রহমানের পরামর্শেই বাগানটি করা হয়েছে। মাটি, সার, ওষুধ দিয়ে বাগানটি তৈরী করা হয়েছে। গত বছরও ফলন হয়েছিল। আমার বংশ অনেক বড় হওয়ায় সবাইকে দিতে হয়েছে। তারপরও যথেষ্ট বিক্রি করতে পেরেছি। এবছরও ভালো ফলন হয়েছে। কিছু কমলা নষ্ট হয়ে গেছে। প্রথমবারের মত আমরাই কমলা চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে যদি আমাদের বাগানের খোঁজ খবর নিত তাহলে এভাবে মারা যেত না ফল গুলো। তারপরও ইনশাল্লাহ এবছর বেশ ভালো বিক্রি করতে পারব।

খলিলুর রহমান মাল বলেন, ইউটিউবে দেখে আমার ছেলে চুয়াডাঙা থেকে কমলার চারাগুলো সংগ্রহ করেছে। পরিত্যক্ত জমিতে মাটি ভরাট করে বাগানটি করেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর আত্মীয় স্বজন খেয়েছে, নিজেরা খেয়েছি। এবছর বুঝতে পারিনি বলে সঠিক সময় স্প্রে করতে পারিনি, তাই কিছু ফল নষ্ট হয়ে গেছে। যে ৩২ শতাংশ জমিতে বাগান করেছি, তাতে অন্য ফসল করলে এতটা লাভবান হওয়া যেত না। নষ্ট হওয়ার পরেও যে ফলন হয়েছে, তাতে আমরা খুশি। লাখ টাকার উপরে বিক্রি করতে পারব।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম বলেন, গ্রামের মধ্যে কমলার বাগান বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দের। প্রথমদিকে আমরা খোঁজ খবর রাখতে পারলে পরবর্তীতে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে যদি একটু আন্তরিক হয়ে খলিলুর রহমান বিষয়টি কৃষি বিভাগকে জানাতেন তাহলে হয়তো বাগানের যে ফলগুলো ঝড়ে গেছে। তা ঝড়ে পড়ত না। এখন থেকে নিয়মিত কমলার বাগানটির খোঁজ খবর রাখবে কৃষি বিভাগ।
এমএসএম / এমএসএম
২৬৭টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি-কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক
অভয়নগরে তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন
জামায়াত নারী ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তবে নারীদের প্রার্থী দেয়নি— মোঃ আবুল কালাম
যতদিন মানুষের অধিকার নিশ্চিত না হবে, ততদিন চব্বিশ চলবে : শফিকুর রহমান
পে-স্কেলের দাবিতে রায়গঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি
শালিখায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ
আত্রাই স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় ভাসুরের হাতে রক্তাক্ত গৃহবধু
যশোর-৬ হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত
চিলমারীতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা
দাউদকান্দিতে ১১ দলের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামীর জনসভা: পরিবর্তনের রাজনীতির আহ্বান আমীরে জামায়াতের
বারহাট্টায় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
চব্বিশের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে চান তারেক রহমান: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান