থেমে নেই প্রতিবন্ধী সাইফুলের জীবন; পিঠা বিক্রি করেই চলছে সংসার
সাইফুল ইসলাম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী।দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্ত্রী আর এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। শীতের মৌসুমে বাড়তি আয়ের জন্য তারা বিক্রি করেন চিতুই পিঠা।সিরাজগঞ্জের রায়ঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের আটঘড়িয়া এলাকার বাসিন্দা তাঁরা।তাদের একটি মাত্র ছেলে সন্তান বর্তমানে ৮ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছেন।তাদের ক্ষুদ্র এই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই এখন তাদের পরিবারে তারা দু'জন ছাড়া আর কেউ নেই। আর স্বামী স্ত্রী দু জনই শারীরিক ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার আটঘড়িয়া বাজারের মাঠে খোলা আকাশের নিচে চিতুই পিঠা বিক্রি করতে দেখা যায় শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম ও তার ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে কাওছার শেখকে।পিঠা বিক্রি করে যা রোজগার হয় তা দিয়ে কোনমতে চলে তাঁদের সংসার।তাই যেকোনো বাঁধা বিপত্তি এলেও এই ব্যবসাকে তারা টিকিয়ে রাখতে চান।শীতের মৌসুমে তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের আরেকটি সুযোগ এসে হাজির হয়। আর তা হলো পিঠা বিক্রি। সামনে তিনটি বেঞ্চ। আর বেঞ্চের সামনেই একটি চুলা জ্বলছে। একটি চুলাতে চিতই পিঠা। সমাজের সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে জীবন যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে চান প্রতিবন্ধী সাইফুল।তিনি বলেন, শীতকাল এলেই আমরা ভাপা পিঠা বিক্রি করি। যেটাকে বলা যায় একপ্রকার মৌসুমি ব্যবসা। শীতের সময় ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা'র ব্যবসা বেশ ভালোই চলে। আর লাভও হয় আশানুরূপ। কিন্তু তেমন পুঁজি না থাকায় লাভের মুখ দেখতে পারছেন না তিনি।সকালে ২ কেজি আর বিকালে ২ কেজি চালের গুড়া দিয়ে এই পিঠা তৈরী করে চলে তাদের অভাবের সংসার । আমার অর্থ নেই ।যদি কোন ব্যক্তি আমাকে অর্থনৈতিক ভাবে সহযোগিতা করে তাহলে ভালো ভাবে ব্যবসা করার মাধ্যমে সংসার চালাতে পারবো এবং ছেলেটাকেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করাতে পারবো। পিঠা খেতে আসা গ্রাহকরা বলেন সব ধরনের খাবার বাড়িতে তৈরি হয়না।চিতই পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে। আমি একটু ফাঁকা সময় পেলে চলে আসি দোকানে পিঠা খেতে। মাঝে মধ্যে বাড়ি'র জন্য নিয়ে যাই। আরেক ক্রেতা সানজিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, শীতকাল এলেই চিতুই পিঠা বিক্রির আমেজ বেড়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই চিতই পিঠা খেতে আসি। দাম ১০ টাকা হলেও বেশ সুস্বাদু এই পিঠা। স্থানীয় এই বাজারে অন্যান্য দোকানের চেয়ে সাইফুল ইসলামের পিঠা বেশি বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।তবে পুঁজি না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী পিঠা বিক্রি করতে পারছে না তারা ।সমাজের বৃত্তবানরা যদি তাদের সহযোগিতা করেন তাহলে হয়তো খুব ভালো ভাবে ব্যবসা কওে সংসার ও ছেলের লেখাপড়া করাতে পারবেন।
ধানগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর ওবাইদুল ইসলাম মাছুম বলেন, প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলামের এই সৎ কর্মের মধ্যে দিয়ে অবহেলিত সমাজ চার-দেয়ালে বন্দি না থেকে বেড়িয়ে এসেছে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে। তাঁরাই দেশের অর্থনীতির চাকা সমৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখছেন। প্রতিটি মানুষ হবে কর্মক্ষম। এভাবেই এগিয়ে যাবে সমাজের অবহেলিত মানুষেরা, আর এভাবেই বির্নিমান হবে স্মার্ট বাংলাদেশ।সমাজের বৃত্তবানদের প্রতি অনুরোধ এসকল মানুষের পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা স¦াভাবিক জীবনে ফিরে আসবে বলে মনে করি।
এমএসএম / এমএসএম
হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দুস্থদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ষড়যন্ত্র এদেশের মানুষ হতে দেবে না
মুকসুদপুর রাতের আঁধারে বসতবাড়ির দেয়াল ভাঙচুর ও গাছ কাটার অভিযোগ
কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও মোবাইল ফোন জব্দ
তাড়াশে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন এমপি ভিপি আয়নুল হক
বড়লেখায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ, স্মারকলিপি প্রদান
দেশে খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি এবি পার্টির
নওগাঁয় বাসের ধাক্কায় যাত্রী নিহতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ
ঈদের আনন্দে মুখর ধামরাইয়ের আলাদীনস পার্ক, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
বাগেরহাট খান জাহান (রঃ) মাজার দীঘির কুমিরে নেয়া শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার
জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হলেন মোহাম্মদ মহসীন
গোদাগাড়ীতে ৪০০ দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বিতরণ