তবে তদন্ত এখন করে আর কী হবে? কানাডার প্রধানমন্ত্রী তো ঝামেলায় পড়েই গেছেন! একটি চরম অবিশ্বস্ত সূত্র কোনো বরাত ব্যতিরেকে জানিয়েছে, পাবনায় পাওয়া জন্মসনদের খবর পৌঁছে গেছে জাস্টিন ট্রুডোর কানে। আর কানে সেই খবর ঢোকার পরপরই স্রেফ কেঁদে ফেলেছেন তিনি! এ ঘটনা নিজের চোখে না দেখেই একটি পরোক্ষ সূত্র জানিয়েছে, খবরটি শুনে শুরুতে ট্রুডো বিস্ময়ে ফেটে পড়েন। এরপর নিজের চোখে জন্মসনদের ছবি দেখে তাঁর চোখ ছলছল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ট্রুডোর কান্না এতটাই গগনবিদারী ছিল যে, সেটি ঠেকানোর জন্য টিস্যুর নতুন তিনটি প্যাকেট খুলতে হয় সংশ্লিষ্টদের!
পুরোপুরি বানোয়াট সূত্রটি আরও জানিয়েছে, পাবনায় পাওয়া ভুয়া জন্মসনদের কারণে এরই মধ্যে ঘরে–বাইরে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে ট্রুডোকে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ভারত প্রভৃতি বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্বনেতারা ফোন করে ঘটনার সত্যতা জানার চেষ্টা শুরু করেছে। এর মধ্যে জো বাইডেন ফোন করে নাকি বলেছেন, ‘ইজ ইট ট্রু, ট্রুডো?’ আর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি একটা ছোট ভিডিও পাঠিয়েছেন, সেখানে তাঁর স্বভাবসুলভ ব্যঙ্গাত্বক মুখভঙ্গি ছিল। তবে ঋষি সুনাক নাকি সমবেদনা জানিয়েছেন এক ডেগচি। কিন্তু গায়ে জ্বলুনি ধরিয়ে দেওয়া কাজ হয়েছে রাশিয়া আর ভারতের পক্ষ থেকে। তাঁরা নাকি ট্রুডো ফোন ধরামাত্র ‘হা…হা…’ করে খালি হেসেছেন। আর এরপর কানের ওপর ফোন রেখে দিয়েছেন খট করে। বুঝুন একবার!
এর পর থেকেই নাকি জাস্টিন ট্রুডোর মন ভার হয়ে আছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে একেবারেই সম্পর্কিত নয়—এমন একটি হাওয়া থেকে পাওয়া সূত্র জানিয়েছে, সব ঘটনা শুনে ধাতস্থ হতে ট্রুডোর কিছুটা সময় লেগেছে। এর পর ট্রুডো কান্নাচাপা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেছেন, ‘…ওরা মানুষ নয়!’ তবে এই মন্তব্যের বিস্তারিত তিনি ব্যাখা করেননি, মানব না হলে মহামানব কিনা—সেটিও খোলাসা করেননি ট্রুডো। তবে পাবনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন যে, তাঁর আসল জন্মসাল ও তারিখ এবং প্রকৃত বাবা–মায়ের নাম যে বদলে যায়নি, এর জন্য হলেও তিনি কৃতজ্ঞ! তা না হলে হ্যাপা যে আরও বাড়ত।
এবার জানা যাক এ ঘটনা সংক্রান্ত সবশেষ তথ্য। কানেমুখে শোনা গেছে যে, পাবনার জন্মসনদ নিজের চোখে দেখতে বাংলাদেশে আসতেও পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। একটি কল্পবিজ্ঞানীয় পক্ষ দাবি করেছে, দুনিয়ার আশ্চর্য জিনিসপত্র দেখার আগ্রহ আছে ট্রুডোর। এর আগে তিনি পিরামিড দেখেছেন, ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যান দেখেছেন। এবার পাবনায় পাওয়া নিজের জন্মসনদ দেখতেও তিনি চলে আসতে পারেন। হাজার হোক, এটি যে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত! তবে নিজের চোখে দেখার পর তাঁর আপাত আটকে থাকা অশ্রু ফের বাধভাঙা হয়ে ওঠে কিনা, সেটি নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যায়। সেক্ষেত্রে এ দেশেও হয়তো টিস্যু পেপারের মজুত গড়ে তুলতে হতে পারে।
সে যাক গে। এসব ব্যাপার পরে ভাবা যাবে। যখন ট্রুডো আসবেন, তখনই দেখা যাবে। এমনিতেই আগেভাগে কাজ করার অভ্যাস আমাদের খুব একটা নেই। প্রয়োজনে ট্রুডোকে বলে দেওয়া যাবে যে, ‘লাঞ্চের পরে কাঁদেন!’ ওই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টিস্যুর একটা না একটা ব্যবস্থা তো হবেই, কী বলেন!