পরিবারের হাল ধরতে যেয়ে শৈশবের স্বপ্ন জলাঞ্জলি
দেশে শিশুশ্রমের প্রধান একটি কারণ দারিদ্র্য। অভাবের সংসারের দায়িত্ব নিতে কিংবা নিজের খাবার জোগাতে শিশু-কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে শ্রমে। যে বয়সে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যাবার কথা সেই বয়সে দারিদ্র্যের গোলক ধাঁধাঁয় পথ হারিয়ে কায়িক পরিশ্রমের কাজে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা।
তাদের মধ্যে এমনি একজন আমির হামজা। ৪বোন মা সহ ৭ জনের পরিবার। বয়স সবেমাত্র ১৩ বছর। পরিবার, জীবন, সমাজ কী- সেটার বুঝে ওঠার আগেই মাথায় চেপে বসেছে আকাশ সমান দায়িত্ব। অথচ এ বয়সে তার হাতে থাকার কথা ক্লাসের বই, ঘুড়ে বেড়ানোর কথা বন্ধুদের সঙ্গে, মেতে ওঠার কথা খেলার মাঠে- সেই বয়সেই তাকে কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে পরিবারের দায়িত্ব।
চতুর্থ শ্রেণীর পাঠ চুকিয়ে নোয়াখালী থেকে চলে এসেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়ালেখা করতে নয়, এসেছে হলের ক্যান্টিনে কাজ করতে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে শিক্ষার্থীরা আসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে সেখানে ক্যাফেটিরিয়ার থালা-বাসন আনা-নেয়া করতে সময় পার হয় তার। সুযোগ পেলে সেও কাজের ফাকে শুরু করতে চায় পড়াশোনা।
ছয় ভাইবোনের মধ্যে পঞ্চম সে। তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা যিনি পেশায় একজন মাঝি।দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির এ সময়ে বাবার আয় দিয়ে সংসার চলে না তাদের। তাই পরিবারের হাল ধরতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ইসলাম হলের ক্যান্টিনে কাজ করতে হচ্ছে। এতে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে তার।
পারিবারিক আর্থিক দুর্দশা বিবেচনা করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে চায় না সে। শুধু সে নয়, তার মতো আরো পাঁচ-ছয় জন অনুর্ধ্ব ১৮ বছরের শিশু-কিশোররা কাজ করছে হলের ক্যান্টিনগুলোতে । তাদের গল্পগুলোও অনেকটা একই রকম। বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ অনুসারে, অনুর্ধ্ব ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তি শিশু হিসেবে বিবেচিত। আর তাদের দিয়ে কাজ করানো কিংবা কাজে বাধ্য করানো অপরাধের শামিল, রয়েছে শাস্তির বিধান।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের তথ্যমতে, দেশে অন্তত ১৭ লাখ শিশু রয়েছে- যারা বিভিন্ন কারণে শিশুশ্রমে নিয়োজিত। এদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১ দশমিক ২ মিলিয়ন বা ১২ লাখ শিশু। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মতে দেশে শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা আরও বেশি। ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম বন্ধে সরকারের আইন থাকলেও তা বন্ধে এবং নিরুৎসাহিত করতে যথাযথ উদ্যোগ নেই। এতে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করছে ‘আলোকিত মানুষ’ নামের একটি সংগঠন। সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, অসহায়, ছিন্নমূল ও পথশিশুদের পাঠদানের পাশাপাশি শিশুদের খাতা-কলম, পোশাক, শীতের পোশাক বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবার ওপর পরিচালিত এ সংগঠনের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এমএসএম / এমএসএম
এইচএসসির ফল ২৫-২৯ অক্টোবরের মধ্যে
বাকৃবিতে বিশ্ব ডিম দিবসে ৪ হাজার ডিম বিতরণ
পবিপ্রবির উপ-উপাচার্যসহ বাংলাদেশি গবেষক দলের জাপান সফর
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহালয়া উদযাপন
পবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির সাংগঠনিক পদ স্থগিত
রাবিতে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ
টানা ৩ বার ২% গবেষকের তালিকায়, সাবেক পাবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন শেকৃবির ৭ শিক্ষার্থী
বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় পাবিপ্রবির ৮ গবেষক
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় কুবি শিক্ষক মোহাম্মদ শফি উল্যাহ্
শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কুবিতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মেলা
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী