ঢাকা রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

কেশবপুর সার্জিক্যাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল অপারেশনে গৃহবধূর মৃত্যু


সোহেল পারভেজ, কেশবপুর photo সোহেল পারভেজ, কেশবপুর
প্রকাশিত: ২৭-৭-২০২৪ দুপুর ৪:৩

যশোরের কেশবপুর সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল অপারেশনে লিপি বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে তড়িঘড়ি করে রোগীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে নিয়ে গেলে রোগীর বমি ও পেট ফেঁপে গেলে রোগীর পরিবারের লোকজন খুলনা বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র সন্ধানী ক্লিনিকে ভর্তি করে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর রোগীর অবস্থা আরও বেশি খারাপ হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। গত ১৮ জুলাই সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের মাদারডাঙ্গা গ্রামের করিমন চালক আসাদুজ্জামানের স্ত্রী মৃত লিপি বেগম। তার পরিবারের অভিযোগ কেশবপুর সার্জিক্যাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানের ভুল অপারেশন ও  কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ উঠে পড়ে লেগেছেন। রোগীর বাড়িতে একাধিকবার বিভিন্ন লোকজন পাঠিয়ে নানা ধরনের হুমকি অব্যাহত রেখেছে।এমনকি কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামের আসাদুজ্জামানের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী লিপি বেগম পেটের ব্যাথা জনিত কারণে গত ২৫ জুন সকালে কেশবপুর স্যার্জিকাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে যান। ওইসময় বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে জানান। ওইসময় লিপি বেগম ঔষধের মাধ্যমে ঠিক হবে কি-না জানালে ডাক্তার বলেন অপারেশন না করলে এ রোগ ভালো হবে না। অপারেশন করতে ১৫ হাজার টাকা মতো খরচ হবে। সমুদয় টাকা পরিশোধ করতে রাজি হলে গত ২৫ জুন ক্লিনিকে ভর্তি করেন। এরপর ৬ জুন ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান ওই রোগীর অপারেশন করেন। অপারেশনের পর থেকেই রোগীর প্রচুর বমি হতে থাকে। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নাকের ভিতর দিয়ে পাইপ ঢুকিয়ে তরল জাতীয় খাবার খাওয়ানো হতো। ক্লিনিকে ৫/৬ দিন চিকিৎসার পর রোগীর অবস্থা অবনতি হওয়ায় বাড়িতে নিয়ে নিয়মিত ঔষধ সেবন করলে ঠিক হয়ে যাবে বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ওই গৃহবধূকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর ওই ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করে দিয়েছেন।
নিহতের মেয়ে বলেন, ভুল অপারশনের কারণে আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। কারণ আমার মায়ের অপারেশনের পর প্রচুর বমি হচ্ছিল। সুস্থ রাখার জন্য গলার ভিতর দিয়ে পাইপ ঢুকিয়ে মাকে তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে হতো। যা খেতো তা আবার পাইপ দিয়ে বেরিয়ে আসতো। ডাক্তারকে বললে তিনি বলতেন সব ঠিক হয়ে যাবে। দিনদিন মায়ের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করালে ঠিক হয়ে যাবে বলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ডাক্তারের কথামতো আমরা বাড়িতে নিয়ে আসি। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ সেবন করাতে থাকলেও মায়ের অবস্থা ভালো হয়না। বমি হতেই থাকে এমনকি পেট ফেঁপে যায়। এরপর মায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার সন্ধানী ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ৬/৭ দিন চিকিৎসার পরেও মায়ের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন কেশবপুর ওই ক্লিনিক কতৃপক্ষ। তাদের কথামতো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তাররা বলেছেন নাড়ি কেটে ফেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমি ওই ডাক্তারের সঠিক বিচার দাবি করছি। 

নিহতের বোন হিরা বেগম বলেন, আমার বোনের মৃত্যুর জন্য ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চেয়েছিলাম। এই কথা জানতে পেরে বোনের বাড়িতে ডাক্তার বিভিন্ন সময় লোকজন পাঠিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এক জায়গায় বাড়ি ও ডাক্তার প্রভাবশালী হওয়ায় সেজন্য আমার বোন জামাই ভয়ে আর এখন অভিযোগ করতে চাচ্ছে না। কারণ আমার বোন জামাই খুব গরীব মানুষ। তবে এদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। ডাক্তারের অপচিকিৎসায় আজ আমার বোন মারা গেছে আগামীতে যেন অন্য কোন মায়ের কোল খালি না হয়।

কেশবপুর স্যার্জিকাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্লিনিকে ভর্তির পর রোগীর শরীরে রক্ত কম থাকায় তার রক্ত দেওয়া হয়। রক্ত দেওয়ার পরেরদিন যথাযথভাবেই অপারেশন করা হয়। আমার অপারেশনে কোন ভুল ছিল না। তবে ওই গৃহবধূ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলো। অপারেশনের পর রোগীর বমি হচ্ছিল। অপারেশন এরপর কয়েকদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে সেলাই কেটে রোগীকে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে শুনি খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। কিন্তু অপারেশনের পরে রোগী মারা গেল কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর বলেন, কেশবপুর সার্জিক্যাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশনের পর গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা পেয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ওই ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

বোয়ালমারীতে ৪ মাসেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত কিশোরী তানিয়া,পরিবারে হতাশার কালো মেঘ

ঝিনাইদহে এম. এ. কালাম ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

দাউদকান্দিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে এনামুল হক সফর তালুকদারকে চায় জনগণ

চলতি মাসে হামে ১২ শিশুর মৃত্যু, রাজশাহীর তিন জেলায় সংক্রমণ বেশি

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকাগামী ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড়, ছাদে বসেও ফিরছে মানুষ

হাটহাজারীতে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ধামইরহাটে উমার ইউনিয়নবাসীর খাদেম হতে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসাদ্দেকুর রহমান পিন্টু

নরসিংদীতে অনুমোদনহীন হাসপাতালে অভিযান, একটিকে সিলগালা, অপরটিকে জরিমানা

মাদারীপুরে গাছের মগডালে ঝুলছিলো মাইক্রো চালকের মরদেহ

নন্দীগ্রামে দিগন্ত শিক্ষা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ

চৌগাছায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

পাবনা থেকে কাজের সন্ধানে এসে মাগুরায় বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু

মনোহরদীতে গাঁজা সেবনের দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড