মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক
মাগুরায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রির সময় ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে হতাশ হয়েছেন তারা। তারা বলছেন, পেঁয়াজে এবারো তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
জানা গেছে, দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনে এগিয়ে রয়েছে মাগুরা জেলা। দেশে উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের ১৫ শতাংশ উৎপাদন হয় এ জেলায়। এ বছর বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ আবাদে চাষিদের সার, বীজ, কীটনাশক, জমি চাষ ও দিনমজুরসহ খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিঘাপ্রতি উৎপাদন হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ মণ।প্রতি মণ পেঁয়াজের মানভেদে পাইকারি বাজার দর বর্তমানে ১ হাজার ২শ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি উৎপাদিত পেঁয়াজের মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা মণ। এতে বিঘাতে মণপ্রতি লোকসান হচ্ছে ১০ হাজার টাকারও বেশি।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জানা গেছে- উপজেলার ৮ ইউনিয়নে এ বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হয়েছে ৩ শত ৫০ হেক্টর জমিতে। তবে হালি পেঁয়াজ উঠলে এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা কৃষি অধিদপ্তরের।
উপজেলার বিলনাথুর এলাকার পেঁয়াজ চাষি মালেক মন্ডল বলেন, আমি এ বছর এক পাকি(২০ শতাংশ) জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগিয়েছিলাম।পাকিতে আমার মোট খরচ পড়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে পেঁয়াজের যে বাজার দর তাতে আমার পাকিতে ৮থেকে ১০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে। এত কষ্টে করে টাকা খরচ করে পেঁয়াজ লাগিয়ে যদি দামটাই না পাই তাহলে আমরা বাঁচব কীভাবে।
গয়েশপুর ইউনিয়নের পেঁয়াজ চাষি মিরুল মিয়া বলেন, আমি ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছিলাম। আমার বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর উৎপাদন খরচই উঠবে না। সরকার তো পেঁয়াজ চাষিদের কোনো আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছে না বলে জানান তিনি।
দায়িয়াপুর এলাকার পেঁয়াজ চাষি রহমত আলী বলেন, এ বছর শুরু থেকেই মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম। প্রতি মণ ১ হাজার ২শ টাকা থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা করে পাচ্ছি। তারপর আবার পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ বেচতে গেলে বস্তার জন্য ২ কেজি ধলতা বাদ দেয়। এতে মণপ্রতি ২কেজি বাদ যাওয়াতে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। এক মন পেঁয়াজ দিলে ৩৮ কেজির দাম পাচ্ছি। পাইকারি বাজারের এই পদ্ধতি বাদ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন।
লাঙ্গলবাধ বাজারের পাইকারি মার্কেটের মের্সাস শেখ ট্রেডার্সের পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। পেঁয়াজের বাজার ভালো যাচ্ছে না।মুড়িকাটা পিয়াজের আমদানি বাজারে ভালোই। তবে পাইকারি বাজারে বর্তমানে ১ হাজার ৩শ টাকা থেকে ১ হাজার ৬শ টাকা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। শ্রীপুর উপজেলা অফিসার সালমা জাহান নিপা বলেন, শ্রীপুর উপজেলায় এবছর ৩ শত ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হচ্ছে।
তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি- বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার দর ৩০টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি। তুলনামূলক দাম না পাওয়াই কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, চাষিরা যেন লাভবান হন সেজন্য সব সময় তাদের কৃষিবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া লাভজনক উৎপাদনের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেও বলা হয়ে থাকে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এমএসএম / এমএসএম
সলঙ্গায় মা-বাবার দোয়া খাবার হোটেলের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে মাদক
মাদারীপুরে পরকীয়ার জেরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ, স্ত্রী আটক
হাতিয়ায় শিক্ষা ট্রাস্ট বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধণা ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান
ট্রাক মালিক সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মজমপুরে শ্রমিক নেতাদের সভা
ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দশম শ্রেণির শির্ক্ষার্থীর আত্মহত্যা
সাভারে শীতার্তদের মাঝে যুবদল নেতার শীতবস্ত্র বিতরণ
বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৩৯ শিক্ষার্থীর প্রতীকী পরিবর্তন ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
মিরসরাই প্রেসক্লাবে ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা সম্পন্ন
খোলা বার্তা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম : অতিথি সাংবাদিকরা
খাস জমির পথ বন্ধ, সাজানো মামলার ফাঁদ:চিতলমারীতে অবরুদ্ধ ১০টি পরিবার
অনুপস্থিত বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে সুবর্ণচরে ভূমিহীনদের বিক্ষোভ
দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তিতে কৌশলে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে প্রধান শিক্ষক