কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের এডমিট কার্ডে ভুল বিষয়ে মানববন্ধন
ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন আশুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে ভুলের কারণে ২৮৬ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করা হয়।
বুধবার ৯ ই জুলাই আশুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজের চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮৬ জনের এডমিট কার্ডের ভূল জনিত কারণে আগামীকালের পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হওয়ায় প্রতিবাদী মিছিল ও মানববন্ধন পালিত হয়। চলমান এইচএসসি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত ২৮৬ জনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী র্যালিটি আশুলিয়া বাজার হইতে সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং প্রতিবাদী মিছিলের অংশ হিসেবে তারা বলতে থাকে যে, এডমিট কার্ডে ভুল কেন প্রশাসন জবাব দাও, ১,২,৩,৩ নইলে গদি ছেড়ে দিন। শিক্ষার্থীদের প্রতি অবহেলা মানি না মানবো না, একশন একশন ডাইরেক্ট একশন স্লোগানে মুখরিত হয়ে আশুলিয়া বাজার থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এই প্রতিবাদী ভাষার কারণ হিসাবে পরীক্ষা বঞ্চিত ছাত্রছাত্রীদের দাবি যে, দীর্ঘ দশ বছরের প্রতিষ্ঠানে এখনও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অদক্ষতার কারণে এমনটি হয়েছে বলে তারা দাবী করে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান কতৃর্পক্ষের অতিরিক্ত অর্থ লোভ, অবহেলাও এ এডমিট কার্ড ভুল হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম কারন বলে মনে করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে বলা হয় যে,আশুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজ অনেক বড় এবং সুনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান। অথচ এখানে প্রায় ১০ বছর যাবৎ কোনো পার্মানেন্ট প্রিন্সিপাল নেই। বিগত কয়েক বছর যাবৎ ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো হচ্ছে। তারা ভারমুক্ত অর্থাৎ অতিদ্রুত একটি পার্মানেন্ট প্রিন্সিপাল চান। দুর্নীতি প্রসঙ্গে যেখানে প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক আয় ২ কোটি ৫০ লাখের অধিক সেখানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বেশ কয়েক মাসের বকেয়া থাকার কারণ তাদের বোধগম্য নয় বলে জানায়। প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়ের দিক থেকে সচ্ছল থাকার পরেও শিক্ষার্থীদের ভালো মানের শিক্ষা সহ এক্সট্রা কারিকুলামের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল এর প্রশাসনিক দক্ষতা দূর্বল হওয়ায় শিক্ষকরাও টাইম মেইনটেইন করছে না এবং ক্লাসে কোনো প্রকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তাদের ধারনা। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ সহ,নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, গুরুত্বসহকারে পাঠদান না করানো, মেয়েদের উত্তাক্ত করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানের কেরানি বিভিন্নক্ষেত্রে কাজের কথা বলে বাড়তি টাকা আদায়সহ বিভিন্ন ফিস বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা বলেন। প্রশাসনিকভাবে অফিসিয়ালি হিসাব বিভাগের পক্ষ থেকে গত দশ বছরের টাকার কোনো লিখিত হিসাব নেই। এছাড়াও দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতিষ্ঠানে ভালো মানের অনুষ্ঠান, বনভোজন, খেলাধুলা হয় না তবে এগুলার ভাউচার তৈরি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়৷
পক্ষান্তরে যেসব শিক্ষকবৃন্দ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানের শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তাহাদের স্কেল ওয়াইজ বেতন দেওয়া হয় না। ফলে অনেক শিক্ষকের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, তাদের পাওনা বাবদ ৪-৫ মাসের বেতন বকেয়া।
অপরদিকে শিক্ষার্থীদের সাথে বীমাথা শুলোভ আচরন করাসহ প্রতিষ্ঠানের আগের তুলনায় ইনকাম সোর্স বৃদ্ধি পাওয়া সত্তেও শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৩০০-৩৫০ টাকা। প্রতিটা সাবজেক্টে এক্সট্রা কোনো শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার অবনতি এবং যারা আছে তাদের যোগ্যতা যাচাই পূর্বক অর্থাৎ পুনঃ যাচাইবাচাই পূর্বক নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এছাড়াও স্বজনপ্রীতি প্রতিষ্ঠান অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে উদাহরণ হিসেবে বলেন যে,সাবেক প্রিন্সিপাল এর আত্মীয় কে ক্যান্টিন ভাড়া দেওয়া হয়েছে কিন্তু ক্যান্টিনে মানসম্মত কোন খাবার নেই এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ক্যান্টিন থেকে তার ভাড়া নেয়া হয় না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তাদের পক্ষ থেকে উঠে আসে যে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতিও অবনতির দিকে ছেলেমেয়েরা ক্যান্টিনে বসে ম্যাক্সিমাম টাইম আড্ডা দেয় এবং অবাধে ঘোরাফেরা করে, প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়না। প্রতিষ্ঠানের নিজ নামে বেশ কিছু দোকান ভাড়া ক্ষেত্রেও স্বজন প্রীতির অভিযোগ যায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বজন প্রীতির প্রসঙ্গ উঠে আসে।
শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণমুলক মতামতে বলেন যে, ভবিষ্যতে কলেজে প্রিন্সিপাল সমাজকর্ম, ভূগোল, পরিসংখ্যান এই তিনটি সাবজেক্ট নতুন খুলেছে। উদ্দেশ্য, তার দ্বিতীয় বউয়ের আপন ভাগিনাকে পরিসংখ্যান সাবজেক্টে চাকরি দেওয়া। কিন্তু তার নিবন্ধন না থাকায় প্রতিষ্ঠান অনুমোদন আনতে দেরি করেছে যার ফলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ওই তিনটা সাবজেক্টের অনুমোদন আনতে পারেনি। এতে করে অনেক স্টুডেন্টদের এই পরীক্ষাগুলো দেওয়া এখন অনিশ্চিত।ফলশ্রুতিতে
এইচএসসি পরীক্ষা -২০২৫ এর এডমিট কার্ড তুলতে ৫০০ করে টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠান। (প্রথমে ১ হাজার টাকা চেয়েছিল অনেকেই ১০০০ দিয়েছে তারপর অনেকে প্রতিবাদ করায় পরবর্তীতে ৫০০ করে টাকা নিয়েছে)।
এই সকল ধরনের অপকর্ম এবং দুর্নীতি পরায়ণ মানসিকতাই আমাদের এই ভোগান্তির অন্যতম কারন বলে অভিযোগ করেন এডমিট কার্ডে ভুল হওয়া পরীক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বর্তমান কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। পরবর্তীতে খুদেবার্তা পাঠালেও কোন উত্তর পাওয়া যায় নাই।
এমএসএম / এমএসএম
চাঁদপুরে শুটিং করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার শুটিং ইউনিট!
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানবাহনের ধীরগতি
নবীগঞ্জে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল
সান্তাহারে হাজারো যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে নীলসাগর এক্সপ্রেস
বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত
নড়াইলে গরীব, দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ
ঈদে সাময়িক দর্শক বাড়লেও সারা বছর লোকসান টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীমঙ্গলের সিনেমা হল
বগুড়ায় মাংস সমিতি’র ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে জামায়াত নেতা উধাও
বগুড়ায় মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত ৩
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরী রাইসা হত্যা: বাবুগঞ্জে মামলা, প্রধান আসামি পলাতক
যানবাহনের চাপ বাড়ছে উত্তর অঞ্চলের মহাসড়কে
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া বন্ধ করতে হবে" মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন