ছোট ছোট সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় অর্জন
পার্থিব জীবনের প্রকৃত মূল্য বুঝে আসবে পরকালে। তাই পার্থিব জীবনের উদ্দেশ্য বুঝে কাজে ব্যস্ত সময় কাটানোই বুদ্ধিমানের পরিচয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সাতটি বিষয়ের আগে তোমরা দ্রুত নেক আমল করো—১. তোমরা কি এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষা করছ, যা তোমাদের সবকিছু ভুলিয়ে দেবে? ২. না ওই ঐশ্বর্যের, যা তোমাদের দর্পিত বানিয়ে ছাড়বে? ৩. নাকি এমন রোগের, যার আঘাতে তোমরা জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে? ৪. না সেই বার্ধক্যের, যা তোমাদের অথর্ব করে ছাড়বে? ৫. নাকি মৃত্যুর, যা আকস্মিক এসে পড়বে? ৬. নাকি দাজ্জালের, অনুপস্থিত যা কিছুর জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে, সে হচ্ছে সেসবের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট? ৭. না কেয়ামতের অপেক্ষা করছ, যে কেয়ামত কি না সর্বাপেক্ষা বিভীষিকাময় ও সর্বাপেক্ষা তিক্ত?’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৬)
এই হাদিসে রাসুল (সা.) আমাদের শব্দে শব্দে সব দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, মানুষ যেকোনো মুহূর্তে চরম সংকটের মুখে পড়তে পারে কিংবা সম্পদের প্রাচুর্যে সে অহংকারী ও অবাধ্য হয়ে পড়তে পারে, তার সুস্থ দেহটি যেকোনো সময়ই অসুস্থতায় আক্রান্ত হতে পারে, বার্ধক্যের আঘাতে হারিয়ে যেতে পারে যৌবনের শক্তিমত্তা, অকস্মাৎ ছোঁ মারতে পারে মৃত্যু, নেমে আসতে পারে দাজ্জালের ফেতনা কিংবা কেয়ামত। তাই নেক কাজের জন্য কোনো অপেক্ষা নয়। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা হবে আকাশসমূহ ও জমিনসম। তা প্রস্তুত করা হয়েছে তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩৩)। আরেক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করো।’ (সুরা বাকারা : ১৪৮)
অনেকে ভাবেন জীবনের সমাপ্তিকালে অবসরে ইবাদত শুরু করবেন। এটি ভুল ও ধোঁকা। বরং যৌবন বয়স থেকেই পরিপূর্ণ গুরুত্বের সঙ্গে ইবাদতে মনোনিবেশ করা উচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তায়ালার আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, তখন সাত ধরনের মানুষ সেই আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। তাদের একজন হলো এমন যুবক, যে তার প্রভুর ইবাদতে বেড়ে উঠেছে’ (বুখারি : হাদিস ৬৬০)। বার্ধক্যের অপেক্ষায় যদি যৌবনেই মৃত্যুই এসে পড়ে, তা হলে পরকালে আফসোসের সীমা থাকবে না। কারণ কেউ জানে না, মৃত্যু কাকে কখন আঘাত করে।
যখন যতটুকু সম্ভব নেক কাজ করা চাই। দুনিয়ার শত ব্যস্ততার ভেতরেও আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য কিছু সময় অবসর করা চাই। আজকের সুযোগ আজকেই কাজে লাগাতে হবে। আগামীকালের অপেক্ষায় থেকে এ সুযোগ নষ্ট করা যাবে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দুটি নেয়ামত এমন, যাতে অধিকাংশ মানুষ ধোঁকায় পড়ে আছে, তা হলো—১. সুস্থতা ও ২. অবসর (বুখারি : হাদিস ৬৪১২)। যখন মানুষের সুস্থতা ও অবসর এ দুটো নেয়ামত একসঙ্গে থাকে তখন চিন্তা করে, এগুলো তো সবসময়ই থাকবে। আর এ ভাবনাই অধিকাংশ মানুষকে ধোঁকায় ফেলে রাখে। তাই আজকের সুযোগ, সুস্থতা ও অবসরকে আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত মনে করে কাজে লাগাতে হবে। তা হলেই সুন্দর হবে আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবন।
Aminur / Aminur
গোসলের পর নামাজের জন্য নতুন করে অজু করতে হবে?
প্রয়োজনীয় কয়েকটি দোয়া
ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানোর ফজিলত
দাম্পত্য কলহ নিরসনে সাহাবি যায়িদের (রা.) যে ঘটনা অনুসরণীয়
ঈদুল ফিতর ও আজহাকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দিল ক্যালিফোর্নিয়া
ভালো কথা বলাও এক ধরনের সদকা
সুন্দর সমাজ গড়তে বিশ্বস্ততার গুণটি যে কারণে অপরিহার্য
শরিয়ত থেকে মারিফত: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল -এর প্রেমে আত্মার অনন্ত যাত্রা
কাবার সামনে কোরআন খতমের স্বপ্ন পূরণে সিরিয়া থেকে হেঁটে মক্কার পথে তরুণ
পিরিয়ডের সময় সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা দিতে হবে?
আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকাই মুমিনের প্রশান্তি
চুলে কলপ ব্যবহার করা কি জায়েয, ইসলাম কী বলে