আসমাউল হুসনা: গুরুত্ব ও ফজিলত
আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নামগুলোকে ‘আসমাউল হুসনা’ বলা হয়। আল্লাহ তায়ালার সুন্দর সুন্দর ৯৯টি গুণবাচক সিফাতি নাম রয়েছে। সিফাতি নামগুলোর প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্ন অর্থ-ভাবার্থ রয়েছে। আসমাউল হুসনার মাধ্যমে আল্লাহর গুণ ও বৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুন্দর সুন্দর গুণবাচক নাম ধরে তাঁকে ডাকার জন্য কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন- ইয়া আল্লাহু, ইয়া রাহমানু, ইয়া রাহিমু, ইয়া গাফুরু, ইয়া আজিজু, ইয়া হাইয়ু, ইয়া রাজ্জাকু, ইয়া জাব্বারু।
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে তোমরা সেসব সুন্দর নামেই তাঁকে ডাকো এবং সেসব লোকের কথা তোমরা ছেড়ে দাও যারা নামের বিকৃতি ঘটায়; যা কিছু তারা করে এসেছে, শিগগিরই তার যথাযথ ফল তারা পাবে’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৮০)। আল্লাহ তাঁর বান্দার ডাকে বা স্মরণে সাড়া দিয়ে থাকেন। বান্দা আল্লাহকে ভুলে গেলেও আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দাকে ভুলে যান না। যখন বান্দা সুন্দর সুন্দর সিফাতি নামগুলো নিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকেন, তিনি তখন বান্দার আবেদন-নিবেদন ও ফরিয়াদগুলো কবুল করে নেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যদি আমাকে ডাকো, তা হলে আমি তোমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করব।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৬০)
হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাঁর পবিত্র নামগুলো শিক্ষা দিয়েছিলেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর আল্লাহ পাক আদমকে সব জিনিসের নাম শিখিয়ে দিলেন, পরে তিনি ফেরেশতাদের বললেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তা হলে আমাকে এ নামগুলো বলো তো? ফেরেশতারা বলল, আপনি পবিত্র, আমাদের তো কিছুই জানা নেই যা আপনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন তা ব্যতীত; আপনিই একমাত্র জ্ঞানী, একমাত্র কুশলী। এবার আল্লাহ পাক আদমকে বললেন, তুমি তাদের কাছে তাদের নামগুলো বলে দাও? অতএব আদম (আল্লাহর নির্দেশে) তাদের সামনে সে নামগুলো সুন্দরভাবে বলে দিল।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩১-৩৩)
আল্লাহর পবিত্র নামগুলো স্মরণ করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে স্মরণ করে থাকেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, তবে আমিও তোমাদের স্মরণ করব’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৫১২)। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি আল্লাহ পাক, তিনি সৃষ্টিকর্তা, তিনি সৃষ্টির উদ্ভাবক, তিনি সবকিছুর রূপকার, তাঁর জন্য নিবেদিত সব উত্তম নাম; আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবকিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে’ (সুরা হাশর, আয়াত : ২৪)। সুতরাং আল্লাহর স্মরণে বান্দার হৃদয়ে প্রশান্তি আসে। আল্লাহর স্মরণই হলো তাঁর নৈকট্য লাভের উপায়। আল্লাহর স্মরণই দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির একমাত্র উপায়। আল্লাহ সবাইকে আসমাউল হুসনার ওপর আমল করার তওফিক দান করুন।
Aminur / Aminur
কুরআন হাদিসের আলোকে সৎ শাসকের বৈশিষ্ট্য
অসচ্ছলতার অভিশাপ থেকে বাঁচার উপায়
রমজানের প্রস্তুতি যেন না ভুলি
পার্থিব কামনায় ক্ষতি হয় আখেরাতের
সন্তান জন্মের পর শোকর ও সন্তুষ্টি
পাপ পরিহারের গুরুত্ব
শবে বরাতে রোজা রাখবেন যেভাবে
শবে বরাতেও ক্ষমা নেই যাদের
রবের করুণা অর্জনের প্রেরণা
জ্ঞান ও সভ্যতার চিরন্তন দর্শন
ইসলামের দৃষ্টিতে ক্রয়-বিক্রয়ের লভ্যাংশ
সাহাবিদের ব্যবসায়িক সাফল্যের রহস্য