আল্লাহর রহমত পায় যারা
আল্লাহর রহমত মুমিনকে উদ্দীপ্ত করে, রহমতের বিপরীতে হতাশা মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তোলে। রহমতের আধার আল্লাহ তাঁর রহমত থেকে বান্দাদের কখনোই নিরাশ না হতে বলেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘মনে রেখো, একমাত্র কাফেররাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যায়’ (সুরা ইউসুফ : ৮৭)। হতাশা তাকে আল্লাহর রহমতের কথা ভুলিয়ে দিতে চায়। আল্লাহর কুদরত থেকে তার দৃষ্টিকে সরিয়ে দিতে চায়। আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহ এবং দয়াকে আড়াল করে দিতে চায়। তাই আল্লাহর রহমত ও সাহায্য আমাদের অর্জন করতেই হবে। কুরআন-হাদিসের আলোকে যারা আল্লাহর রহমতপাপ্ত হন, যাদের সঙ্গে আল্লাহ থাকবেন বলে জানিয়েছেন, তারা হলেন-
আল্লাহভীরু ও দয়াশীল : আল্লাহ মুত্তাকি ও দয়াশীল মানুষের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা আল্লাহভীরু ও অনুগ্রহকারী।’ (সুরা নাহল : ১২৮)
আল্লাহর পথে আহ্বানকারী : যারা মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। আল্লাহর মহান দুই নবী মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে দ্বীনি দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, নিশ্চয় আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি ও দেখি।’ (সুরা তাহা : ৪৬)
বিপদগ্রস্ত মুমিন : যখন কোনো মুমিন বিপদগ্রস্ত হয় এবং সে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে আল্লাহ সাহায্যের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে থাকেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন দুই দল পরস্পরকে দেখল, মুসার অনুসারীরা বলল, নিশ্চয় আমরা ধরা পড়ে যাব। মুসা (আ.) বললেন, কখনোই না। নিশ্চয় আমার প্রভু আমার সঙ্গে আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’ (সুরা শূরা : ৬২)
আল্লাহর পথে হিজরতকারী : আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা.) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করছিলেন, তখন আবু বকর (রা.) শত্রুর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তারা গুহায় ছিল, তখন সে তার সঙ্গীকে বলেছিল, বিষণ্ন হয়ো না। আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা তাওবা : ৪০)
ধৈর্যশীল ব্যক্তি : যারা দ্বীনের ওপর চলতে গিয়ে বিপদের শিকার হয় এবং ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা : ১৫৩)
অন্তরে আল্লাহর ভয়কারী : আল্লাহকে সঙ্গে পেতে হলে আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করতে হবে। জীবনের সর্বত্র তাঁর বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন এবং তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে বিনম্র আচরণ করতে হবে। হজরত কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তার সঙ্গী হবেন। আর আল্লাহ যার সঙ্গী হবেন, তার সঙ্গী এমন একটি দল হবে (অর্থাৎ ফেরেশতারা) যাদের পরাজিত করা যায় না, এমন পাহারাদার হবেন যিনি ঘুমান না এবং এমন পথপ্রদর্শক হবেন যিনি কখনো পথভ্রষ্ট হন না।’ (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ২০/১৪)
Aminur / Aminur
কেনাকাটার ব্যস্ততায়ও ইবাদত
নামাজে সালাম ফেরানোর সঠিক নিয়ম
দোয়া কবুলের জন্য যে নিয়মগুলো মানতে হবে
ইসলামে মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক
সাহাবিরা যেসব খেলাধুলা করতেন
পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
নতুন চাঁদ দেখা: অবহেলিত এক গুরুত্বপূর্ণ বিধান
মহররম মাসের অপরিসীম গুরুত্ব
ঈমানের সুরক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা
মানুষ জান্নাত-জাহান্নামে যাবে যে দুই অঙ্গের কারণে
ইসলামের দৃষ্টিতে দায়িত্ববোধের গুরুত্ব
অসাধারণ মানুষের গুণাবলি ও জীবনাদর্শ