চাহিদা বেড়েছে লেপ-তোশকের,ব্যস্ততায় কারিগররা
প্রকৃতিতে এখন শীতের হিমেল বাতাস বইতে শুরু করেছে। শীতের আগমনী বার্তা প্রকৃতিতে আসার শুরুতেই বুননকারীদের তুলা ছাঁটাই ও লেপ-তোশক,জাজিম তৈরির কাজে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য।
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে দিন-রাত সুঁই সুতা আর ফিটিংয়ে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। শীত যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বেড়েছে লেপ-তোশকের কদর। সেই সঙ্গে বেড়েছে কারিগরদের কদরও। আগাম প্রস্তুতি নিতে লেপ-তোশক বানাতে ক্রেতারাও ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। অনেকে পুরোনো লেপ ভেঙে তৈরি করে নিচ্ছে লেপ-তোশক জাজিম বালিশ।
পৌরশহরের তুলাপট্টির ও শহীদ এফএম রহমান রোড এলাকায় দেখা যায়, লেপ-তোশকের সব দোকানে কারিগরদের ব্যস্ততা। দোকানিরাও পর্যায়ক্রমে অর্ডার নিচ্ছেন।
গভীর রাত ও ভোরে কিছুটা শীত অনুভূত হচ্ছে, ফলে সবাই যার যার সাধ্যমতো শীত মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শীতে কাতর লোকজন রাতের বিছানায় কাঁথা বা কম্বল টেনে নিচ্ছেন।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে জানা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি শিমুল তুলা ৫০০ টাকা ও বিচি ছাড়া শিমুল তুলার কেজি ৭০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে। এসব তুলায় বালিশ তৈরি করেন সমাজের ধনী লোকেরা। আর গার্মেন্টস তুলায় বালিশ, লেপ ও তোমক বানিয়ে নেন মধ্যবিত্ত ও গ্রামের গরিব মানুষেরা। তবুও বর্তমানে ৪ হাত প্রস্থ ও ৫ হাত দৈর্ঘ্যের লেপ তৈরি করতে ১,০০০ থেকে ২৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা গত শীত মৌসুমের চেয়ে ১৫০-২০০ টাকা বেশি।
বাজারে কার্পাস তুলা প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, কালো হুল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কালো রাবিশ তুলা (বাংলা) ৩০ থেকে ৪০ টাকা, সাদা সুপার তুলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাইলোড়া এলকার বাসিন্দা আলতু মিয়া জানান, বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবার লেপ-তোশক তৈরির খরচও বেড়েছে। তাই পুরোনো লেপ খুলে নতুন করে তৈরি করার জন্য দোকানে নিয়ে এসেছি। তুলার খরচ বাদ দিয়ে কাপড় ও মজুরি বাবদ ১১০০ টাকায় বানাতে হচ্ছে দোকানীদের।
মোহনগঞ্জ শহরের রিকশাচালক মাহাবুবুর রহমান জানান, বর্তমান মৌসুমে বেশি শীত হতে পারে, তাই আগে থেকেই তৈরি লেপ দোকানে এসে কিনে নিলাম।
লেপ-তোশক কিনতে আসা মো. সুরুজ আলী জানান, শীতের শুরুতেই ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। গতবারের তুলনায় এবারে ক্রেতা তুলনামূলক বেশি।
তিনি আরও বলেন, "আকার অনুযায়ী লেপ-তোশক তৈরিতে ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। একটি লেপ তৈরি করতে মজুরি ২০০ টাকা, তোশক ২৫০ টাকা, বালিশ প্রতিটি ১০০ টাকা এবং জাজিম তৈরিতে ১০০ টাকা হারে মজুরি নেওয়া হচ্ছে। এই মজুরির হার অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি।"
লেপ-তোশক ব্যবসায়ী মো. রাজন মিয়া বলেন, পুরানো লেপ-তোশক মেরামতের পাশাপাশি নতুন বেশকিছু লেপ-তোশকের অর্ডার পেয়েছি। এখন তুলা পিটিয়ে তা রং-বেরঙের কাপড় দিয়ে লেপ-তোশকের কাভারে মুড়িয়ে সুই-সুতার ফোঁড় তুলতেই ব্যস্ত সময় পার করছি। এক একটি লেপ-তোশক তৈরি করে আমাদের সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লাভ হয়। চাইলে ১-২ দিনেই অর্ডার অনুযায়ী লেপ-তোশক ডেলিভারি দিতে পারি। তবে চাহিদা সামাল দিতে আমরা আগে থেকেই লেপ-তোশক বানিয়ে মজুদ রাখি।
দোকানদার ও কারিগর মো. সোহেল মিয়া জানান,শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। তবে আগের মতো বেচাকেনা নাই। তবে আমি আশাবাদী সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়বে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার হাতনী গ্রামের মাজদারের স্ত্রী রেহেনা খাতুন বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, কম্বলের যে দাম সেটা কিনার সামর্থ্য নাই। এজন্য অল্প টাকা দিয়ে লেপ বানিয়ে নিচ্ছি।"
এমএসএম / এমএসএম
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ
গ্লোবাল স্কলার্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক পেলেন জুড়ীর ওয়ারিশা রাহমান
আওয়ামিলীগের সাথে কোন আপোষ নয় - মনিরুল হক চৌধুরী
প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে বিএনপির গফুর ভূঁইয়ার রিট
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে: পিআইবি মহাপরিচালক
সাভারে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা
আত্রাইয়ে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে অল্পের জন্য শত শত যাত্রী প্রাণে রক্ষা
আমার উপজেলা আমার দায়িত্ব—শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ মুক্ত
রূপগঞ্জে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া
নেত্রকোনার মদনে লাহুত হত্যা মামলার আট মাসেও মিলেনি চার্জশীট
দেয়াল পত্রিকা ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের লাবিবা
তানোরে ভাতের সাথে বিষ মিশিয়ে নির্বিচারে হাঁস মুরগী মেরে ফেলার অভিযোগ