মাওনায় ‘মিথ্যে মৃত্যু’ নাটক মাদার্স কেয়ার হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর হয়রানির অভিযোগ
গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত মাদার্স কেয়ার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রসবকালীন জটিলতা নিয়ে ভয়াবহ ভুল তথ্য প্রদান এবং হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি ও তাঁর পরিবারের সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে রোগীর মা (যিনি ক্যান্সার আক্রান্ত) এবং প্রসূতি নিজেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ভুক্তভোগী প্রসূতি অনন্যা (২৬) জানান, তিনি নিয়মিত চেকআপের জন্য গত ৬ ১১ ২০২৫ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার মাদার্স কেয়ার হাসপাতালে যাই চেকআপের করাতে। রিপোর্ট প্রদানে কর্তব্যরত নার্স এসে পরিবারকে জানায়, "একটি মেয়ে মারা গেছে, অন্য মেয়েটির নাভিতে প্যাঁচ লেগে আছে। এখনই আইসিইউ দরকার, তা না হলে ঘটনা মর্মান্তিক হয়ে যাবে।"
অনন্যা বলেন, "আসলে আমি গিয়েছিলাম আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য। কিন্তু তাদের ভুল রিপোর্ট এবং কার্যকলাপেই এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছে।"
ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে যখন রোগীর অসুস্থ মায়ের সামনে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়। অনন্যা জানান, "আমার মা ক্যান্সারের রোগী। আমার মায়ের সামনে মর্মান্তিক এই ঘটনা প্রকাশ করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।" মায়ের এই অবস্থা দেখে প্রসূতি অনন্যা নিজেও অজ্ঞান হয়ে যান।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোনো রকম দেরি না করে পরিবারটি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী ও নবজাতককে ময়মনসিংহের ইউনিভার্সেল হসপিটালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, মারা যাওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। বর্তমানে মা অনন্যা এবং তাঁর দুই নবজাতক কন্যা (যমজ)—সকলেই সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।
মাদার্স কেয়ার হাসপাতালের এই মারাত্মক ভুল ঘোষণার বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার জহিরুন্নেসা রেনু এর বক্তব্য জানতে চেয়ে সাংবাদিকরা হাসপাতালে যান। কিন্তু তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি। এমনকি, মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাক্তার রেনু ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকায় নানা রকম তদবির করেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন, যার কারণে পরিবারটি প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছে না।
এই গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমি পুরো বিষয়টি জানি। কিন্তু রোগীর পরিবারের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো কিছুই বলতে চাননি। কেন বলতে চাননি, তা স্পষ্ট নয়। তাই কারো কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকার কারণে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্য দেওয়া এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে ভুল বা মিথ্যা ভীতিকর তথ্য দিয়ে প্রসূতি এবং তাঁর অসুস্থ মায়ের জীবন বিপন্ন করে তোলার অভিযোগটি চিকিৎসা নৈতিকতার মারাত্মক লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী পরিবার যখন ভয়ভীতির কারণে মুখ খুলতে পারে না, তখন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স, ডাক্তারদের যোগ্যতা ও সেবার মান নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা জরুরি।
এমএসএম / এমএসএম
বৃহত্তর উত্তরা সর্বোচ্চ উলামা আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত
শহীদ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কামারপাড়া তুরাগের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
রাজউকের মোবাইল কোর্ট অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিন ভবনে ব্যবস্থা, মিটার জব্দ
জন্মনিয়ন্ত্রণে ‘ভূতের বাতি’ সামগ্রীর তীব্র সংকটে সেবা ব্যাহত, বঞ্চিত কোটি কোটি দম্পতি
ফায়ারের ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত ফায়ার ফাইটার কামাল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মালামাল চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ২
সাংবাদিকের ওপর হামলা হোটেল বায়ান্ন ইন্টারন্যাশনাল কর্মচারীদের
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ফরেস্ট গার্ডদের মামলা পদোন্নতির সমাধান আদালতে
‘সংরক্ষিত আসনের জন্য আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ফিরিয়ে দিয়েছি’
সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত
পোড়া তেল ব্যবহার না করার আহ্বান বিএফএসএ চেয়ারম্যানের