ঢাকা সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

মাওনায় ‘মিথ্যে মৃত্যু’ নাটক মাদার্স কেয়ার হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর হয়রানির অভিযোগ


এম এস রহমান  photo এম এস রহমান
প্রকাশিত: ২০-১১-২০২৫ দুপুর ১:৫২

গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত মাদার্স কেয়ার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রসবকালীন জটিলতা নিয়ে ভয়াবহ ভুল তথ্য প্রদান এবং হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি ও তাঁর পরিবারের সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে রোগীর মা (যিনি ক্যান্সার আক্রান্ত) এবং প্রসূতি নিজেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

ভুক্তভোগী প্রসূতি অনন্যা (২৬) জানান, তিনি নিয়মিত চেকআপের জন্য গত ৬ ১১ ২০২৫ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার মাদার্স কেয়ার হাসপাতালে যাই চেকআপের করাতে। রিপোর্ট প্রদানে কর্তব্যরত নার্স এসে পরিবারকে জানায়, "একটি মেয়ে মারা গেছে, অন্য মেয়েটির নাভিতে প্যাঁচ লেগে আছে। এখনই আইসিইউ দরকার, তা না হলে ঘটনা মর্মান্তিক হয়ে যাবে।"

অনন্যা বলেন, "আসলে আমি গিয়েছিলাম আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য। কিন্তু তাদের ভুল রিপোর্ট এবং কার্যকলাপেই এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছে।"

ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়ে যখন রোগীর অসুস্থ মায়ের সামনে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়। অনন্যা জানান, "আমার মা ক্যান্সারের রোগী। আমার মায়ের সামনে মর্মান্তিক এই ঘটনা প্রকাশ করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।" মায়ের এই অবস্থা দেখে প্রসূতি অনন্যা নিজেও অজ্ঞান হয়ে যান।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোনো রকম দেরি না করে পরিবারটি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী ও নবজাতককে ময়মনসিংহের ইউনিভার্সেল হসপিটালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, মারা যাওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। বর্তমানে মা অনন্যা এবং তাঁর দুই নবজাতক কন্যা (যমজ)—সকলেই সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।

মাদার্স কেয়ার হাসপাতালের এই মারাত্মক ভুল ঘোষণার বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার জহিরুন্নেসা রেনু এর বক্তব্য জানতে চেয়ে সাংবাদিকরা হাসপাতালে যান। কিন্তু তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি। এমনকি, মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাক্তার রেনু ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকায় নানা রকম তদবির করেছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন, যার কারণে পরিবারটি প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছে না।

এই গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমি পুরো বিষয়টি জানি। কিন্তু রোগীর পরিবারের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো কিছুই বলতে চাননি। কেন বলতে চাননি, তা স্পষ্ট নয়। তাই কারো কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকার কারণে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্য দেওয়া এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে ভুল বা মিথ্যা ভীতিকর তথ্য দিয়ে প্রসূতি এবং তাঁর অসুস্থ মায়ের জীবন বিপন্ন করে তোলার অভিযোগটি চিকিৎসা নৈতিকতার মারাত্মক লঙ্ঘন।

ভুক্তভোগী পরিবার যখন ভয়ভীতির কারণে মুখ খুলতে পারে না, তখন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স, ডাক্তারদের যোগ্যতা ও সেবার মান নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা জরুরি।

এমএসএম / এমএসএম

সবুজবাগ থানার এসআই সৈকত কাইয়ুমসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ চার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ

মুগদার মানিকনগরে গভীর রাতে প্রাইভেটকার থেকে ৩২ কেজি গাঁজা পাচারের অভিযোগ, গাড়ি জব্দ

মিরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে জাল টাকা ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ যুবক গ্রেফতার

স্বাচিপের আজীবন সদস্য হয়েও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক

বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থা বসাস এর ৩৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

RRTC: দক্ষিণ এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন দিগন্ত

হাম প্রতিরোধে আরহাম শাদমান চৌধুরীর নেতৃত্বে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করল শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদল

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি

সাভারে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আজ মানববন্ধন

রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পর্যালোচনায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চিকিৎসা সেবায় বিপ্লব ঘটাতে চান জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিন

ভারতে মুসলিম নির্যাতন নিয়ে সেমিনারের আয়োজন ফ্রেন্ডস অব হিউম্যানিটির

যার আছে দিয়ে যান, যার লাগবে নিয়ে যান উত্তরায় জামায়াতের মানবতার বক্স উদ্বোধন