মাদক থেকে পাপ ও অপরাধের সূচনা
পৃথিবীতে পাপ ও অপরাধের অন্যতম উৎস অবৈধ নেশা। এ জন্য মাদককে বলা হয় পাপের মূল, অপরাধের জননী। মাদকের নেশায় মাতাল হয়ে একজন লোক হত্যা করতে পারে। করতে পারে ব্যভিচারসহ নানারকম জঘন্য অপরাধ। এমনকি মারা যেতে পারে সে নিজেও। মাদক ছাড়া অন্যান্য অপরাধ থেকে মানুষ চাইলে সহজেই ফিরে আসতে পারে। কিন্তু মাদক এমন এক নেশা, যা গ্রহণে নিয়ন্ত্রণে থাকে না; বরং নিজেই মাদক বা নেশার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। অর্থাৎ সে নেশাকে ছাড়তে চাইলেও নেশা তাকে সহজে ছাড়ে না। মাদক নেশা উদ্রেককারী এমন বস্তু, যা মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করে দেয়। তার নাম যা-ই হোক না কেন। শরিয়তে মানুষের জীবন সুরক্ষার জন্য হত্যার পরিবর্তে হত্যার বিধান রাখা হয়েছে। চুরির দায়ে হাত কাটার বিধান রাখা হয়েছে সম্পদ সুরক্ষার জন্য। আর সব ধরনের মাদকদ্রব্য হারাম করা হয়েছে মানুষের জ্ঞান, বিবেক-বুদ্ধি সুরক্ষার জন্য।
মাদক গ্রহণে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে ইসলামে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে মদ পান করে, তাকে বেত্রাঘাত করো, পুনরায় মদ পান করলে তাকে আবার বেত্রাঘাত করো, আবার মদ পান করলে আবার বেত্রাঘাত করো, চতুর্থবারে বললেন, তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করো’ (নাসায়ি : ৫৬৬২)। হানাফি মতানুসারে মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে আশিটি বেত্রাঘাত (হেদায়া : ২/৫২৮)। আরেক হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মদ পান করে এবং মাতাল হয়, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হয় না। সে মারা গেলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তওবা করে, তবে আল্লাহ তায়ালা তার তওবা কবুল করবেন। সে পুনরায় মদ পানে লিপ্ত হলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে ‘রাদগাতুল খাবাল’ নামক বীভৎস পানীয় পান করাবেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! রাদগাতুল খাবাল কী? তিনি বললেন, জাহান্নামিদের দেহ থেকে নির্গত পুঁজ ও রক্ত।’ (ইবনে মাজা : ৩৩৭৭)
কুরআন কারিমে মাদক নিষিদ্ধের বিষয়টি তিনটি ধাপে এসেছে। প্রথমে বলা হয়েছেÑ ‘লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বলুন এতদোভয়ের মাঝে আছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকার; কিন্তু সেগুলোতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি ও পাপ বেশি’ (সুরা বাকারা : ২১৯)। দ্বিতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারক শরগুলো ঘৃণ্য বস্তু, এগুলো শয়তানের কাজ। তোমরা তা বর্জন করো। যাতে তোমরা সফল হতে পারো’ (সুরা মায়েদা : ৯০)। সর্বশেষ বলা হয়েছেÑ ‘শয়তান তোমাদের মধ্যে শত্রুতাও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণে ও নামাজে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’ (সুরা মায়েদা : ৯১)
প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কেয়ামতের কিছু নিদর্শন হলো, জ্ঞান লোপ পাবে, অজ্ঞতার বিস্তার ঘটবে, মদ পান ও মাদকের প্রসার ঘটবে, ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে’ (বুখারি : ৮০)। ইসলামি আইন মতে মাদক হারাম হওয়ার পাশাপাশি তা অপবিত্রও। কোনো মুসলমানের জন্য মাদক ব্যবহার করা যেমন হারাম অনুরূপভাবে তা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিতরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় করাও সম্পূর্ণরূপে হারাম (হেদায়া : ৩/৪৯)। সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য সর্বস্তরে মাদক বর্জন করতে হবে।
Aminur / Aminur
নতুন বছর শোভিত হোক পুণ্যে
মৃত্যুর ঘটনায় জীবিতদের কর্তব্য
তীব্র শীতে মসজিদের পথে : ত্যাগ ও প্রাপ্তি
মাদক থেকে পাপ ও অপরাধের সূচনা
আমানতদার ব্যক্তির মর্যাদা ও পুরস্কার
সাহাবিদের জীবনী চর্চার সুফল
সুন্নত মেনে বিয়ে করলে শান্তি মেলে
মানুষ হত্যা রোধে ইসলামের নির্দেশনা
ফরজে আইন ইলম অর্জনের নির্দেশনা
অসৎ সঙ্গ এড়িয়ে চলার সুফল
কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দশ প্রকার সুন্দর মৃত্যু
অবৈধ সম্পদে জীবনের যত ক্ষতি