জুলুমের পরিণাম নিজের ওপরই ফিরে আসে
জুলুম অর্থ অন্যায়ভাবে অন্য মানুষের ওপর হস্তক্ষেপ করা, ক্ষতি করা, অপমান করা, প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, কঠোরতা অবলম্বন করা ইত্যাদি। যে জুলুম করে সে জালেম আর যাকে জুলুম করা হয় সে মাজলুম। জালেমের জন্য আখেরাতে রয়েছে চরম লাঞ্ছনাকর আজাব। দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয় নানা রকম শাস্তি। জুলুমকারী আল্লাহর কাছে চরম অভিশপ্ত। আর মানুষের দৃষ্টিতেও মারাত্মক ঘৃণিত। আল্লাহ তায়ালা জুলুমকারীকে সঙ্গে সঙ্গে পাকড়াও করেন না; বরং তিনি সুযোগ দেন জুলুম-অত্যাচার থেকে ফিরে আসার। কুরআনের ঘোষণা, ‘তুমি কখনো মনে করো না যে, জালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ “গাফিল”, তবে তিনি ওদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির। ভীত-বিহ্বলচিত্তে আকাশের দিকে চেয়ে ওরা ছোটাছুটি করবে, নিজেদের প্রতি ওদের দৃষ্টি ফিরবে না এবং ওদের অন্তর হবে উদাস।’ (সুরা ইবরাহিম : ৪২-৪৩)
মানুষ নানাভাবে জুলুম করে থাকে। সেসব জুলুমের মধ্যে কিছু আছে যা আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। আর কিছু আছে যা পূর্ণাঙ্গ বদলার বিনিময়ে শাস্তি থেকে পরিত্রাণ দেবেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেন, জুলুম তিন প্রকার ১. এমন জুলুম যা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। ২. এমন জুলুম যা আল্লাহ ক্ষমা করবেন। ৩. এমন জুলুম যা কখনো হিসাববিহীন আল্লাহ ছেড়ে দেবেন না। সুতরাং যে জুলুম আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, তা হলো শিরক; আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয় শিরক মহাজুলুম। আর যে জুলুম আল্লাহ ক্ষমা করবেন তা হলো, বান্দাদের নিজেদের প্রতি জুলুম, যা শুধু তাদের এবং তাদের রবের মাঝেই সীমাবদ্ধ। আর যে জুলুম হিসাববিহীন ছেড়ে দেবেন না তা হলো বান্দাদের একে অপরের প্রতি জুলুম, যতক্ষণ না জুলুমকারী থেকে তার বদলা না নেওয়া হবে। (মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস : ৬৪৯৩)
সব ধরনের জুলুম থেকে দূরে থাকা একান্ত জরুরি। কারণ মাজলুম ও অত্যাচারিত ব্যক্তির করুণ আর্তনাদ ও ব্যথাতুর ফরিয়াদ বৃথা যায় না। মাজলুম জালেমের বিরুদ্ধে কোনো বদদোয়া করলে, আল্লাহ তা কবুল করে নেন। বুখারি শরিফের বর্ণনা, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়ামেনে শাসক নিয়োগ করে পাঠানোর সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেছিলেন ‘মাজলুমের বদদোয়াকে ভয় করবে। কেননা তার বদদোয়া এবং আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না। (বুখারি : হাদিস ১৪৯৬)। জুলুমের পরিণতি দুনিয়ায়ও ভোগ করতে হয়।
আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অবশ্যই মহান আল্লাহ জালিমকে সুযোগ দেন। এরপর তিনি যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন তাকে ছাড়েন না। এরপর তিনি তেলাওয়াত করেন, ‘এমনই তোমার রবের পাকড়াও, যখন কোনো অত্যাচারী জনপদবাসীকে তিনি পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তার পাকড়াও চরম মর্মান্তিক, অতিশয় কঠোর।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৪৭৫)। মূলত অন্যকে জুলুম করলে আখেরে নিজের জীবনই ধ্বংস হয়। দুনিয়ায় অশান্তি ও আখেরাতে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।
Aminur / Aminur
রিজিকে বরকত লাভে করণীয়
রমজান শেষ হওয়ার আগে যে কাজগুলো করা জরুরি
সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসআলা
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
আই নিউজ বিডি কার্যালয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপস না করার অঙ্গীকার
অসহায়দের পাশে দিয়ামনি ই কমিউনিকেশন, রমজানে কোরআন ও জায়নামাজ বিতরণ
রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?
রমজানের শিক্ষা
জুমার দিন যা করলে মিলবে উট কোরবানির সওয়াব
রমজানে কখন সবচেয়ে বেশি দোয়া কবুল হয়
রোজা রেখে ইনজেকশন ব্যবহার
সেহরি না খেলে কী রোজা রাখা যাবে?