ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

ধনীরা যে সত্যগুলো গোপন রাখতে চায়ঃ শায়খ মু. নুমান রিডার


ডেস্ক রিপোর্ট photo ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪-১-২০২৬ দুপুর ২:২৯

আমরা এমন এক ব্যবস্থার ভেতর আছি, যা তৈরি হয়েছে ধনীদের স্বার্থে। সমাজের নিয়মকানুন, শিক্ষাব্যবস্থা এমনকি সোশ্যাল প্লাটফর্মের বার্তাগুলো পর্যন্ত সবকিছুই আপনাকে সীমাবদ্ধ রাখে, আর ধনীদের জন্য তৈরি করে সুবিধাজনক পথ। কিন্তু এখন সময় জাগার, সময় এসেছে জানার, সেই সব গোপন তথ্য যা আপনাকে আপনার আর্থিক ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করবে।

এখানে এমন ১২টি বাস্তব সত্য তুলে ধরা হলো, যা বেশিরভাগ মানুষ জানে না:

১. পরিশ্রম নয়, বুদ্ধিমত্তা জিতিয়ে দেয়:
ধনীরা নিজ হাতে সব কাজ করে না, তারা অন্যের সময়, দক্ষতা এবং অর্থ ব্যবহার করে নিজের স্বপ্ন গড়ে। একজন চাকুরিজীবী কেবল অন্যের লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখে।

২. টাকা খারাপ নয়, এটি একটি শক্তি:
ধনীরা জানে, টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাবনার হাতিয়ার। অথচ সমাজে টাকার প্রতি নেতিবাচক ধারণা ছড়ানো হয়।

৩. শুধু জমিয়ে রাখা নয়, বিনিয়োগই স্মার্ট পথ:
ব্যাংকে টাকা রেখে আপনি ক্রয়ক্ষমতা হারান। ধনীরা অর্থ বিনিয়োগ করে বাড়ায়, রিয়েল এস্টেট, স্টার্টআপ, বা শেয়ার বাজারে।

৪. সার্টিফিকেট নয়, সিস্টেম বুঝতে শিখুন:
প্রথাগত শিক্ষা চাকরি পাওয়ার জন্য, কিন্তু ধনীরা শেখে কীভাবে অর্থ ও ব্যবসার নিয়মকানুন কাজে লাগিয়ে একটি সিস্টেম বানাতে হয়।

৫. কর ফাঁকি নয়, কর বুঝে খরচ করা:
ধনীরা কর আইনের খুঁটিনাটি জানে, ফলে তারা কর দেয় কম, কিন্তু সম্পদ গড়ে বেশি। তারা ব্যবসার কাঠামো এমনভাবে সাজায় যাতে কর কম হয়।

৬. ঋণ ভয় নয়, একটি কৌশলী অস্ত্র:
তারা খারাপ ঋণ এড়িয়ে চলে এবং ভালো ঋণ ব্যবহার করে আয়-সৃষ্টিকারী সম্পদ কিনে নেয়।

৭. খরচ নয়, সম্পদে ফোকাস:
ধনীরা ভোগ্য পণ্যে নয়, বিনিয়োগযোগ্য সম্পদে ব্যয় করে, যা ভবিষ্যতে আয় আনে। আপনি ফোন কেনেন, তারা সেই কোম্পানির মালিকানা নেয়।

৮. প্রতিভার চেয়েও নেটওয়ার্ক মূল্যবান:
জ্ঞানীদের সঙ্গে সংযোগে থাকা মানে সুযোগের দরজা খোলা রাখা। সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল জানলে সফলতা সহজ হয়।

৯. সময় নয়, স্বাধীনতা সবচেয়ে বড় সম্পদ:
ধনীরা অন্যের সময় কিনে (কর্মী, সিস্টেম, টেকনোলজি) নিজেকে সময় দেয়। তাদের লক্ষ্য জীবনকে নিয়ন্ত্রণে আনা।

১০. বাজারে খেলা নয়, বাজারকে বোঝা:
ধনীরা বাজারের তথ্য ও অ্যালগরিদম কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। তারা নিয়ম বানায়, অন্যরা তা মানে।

১১. ব্যর্থতা মানে শিক্ষা:
ধনীরা ব্যর্থতাকে ভয় করে না, বরং এটিকে শেখার ধাপ হিসেবে দেখে। সমাজ আপনাকে ব্যর্থতা থেকে দূরে রাখে যেন আপনি চেষ্টা না করেন।

১২. জ্ঞানই আসল শক্তি:
যত কম মানুষ ফাইনান্স, ইনভেস্টমেন্ট আর ব্যবসার নিয়ম জানে, ততই ধনীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। জ্ঞানই আপনাকে মুক্ত করতে পারে।

আপনি কী করতে পারেন?
আর্থিক শিক্ষা নিন: ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর ও অর্থ ব্যবস্থাপনা শিখুন। অ্যাসেট গড়ুন: এমন কিছুতে বিনিয়োগ করুন যা আয় আনে। সফলদের সঙ্গে সংযোগ রাখুন: এতে শেখা ও বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। ঝুঁকি নিতে শিখুন: হিসেব করে পদক্ষেপ নিন, সাহস না থাকলে কিছুই বদলাবে না। সময়কে মূল্য দিন: অর্থ নয়, সময়ই সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনি এগিয়ে যাবেন।

আপনার জন্ম যদি সীমাবদ্ধ পরিবেশে হয়, তাও আপনি জ্ঞান, কৌশল আর ধৈর্য দিয়ে জীবন বদলে দিতে পারেন। এই সত্যগুলো জানুন, গ্রহণ করুন, আর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন। ধনীরা চায় আপনি অন্ধকারে থাকুন। আপনিই অন্ধকারের মাঝে আলোকদানি হয়ে উঠুন৷ যদি আলোকিত করতে চান তাহলে আপনাকেই প্রথমে জানতে হবে কী গোপন রাখা হয়েছে। আস সুফফাহ ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্টের একটি প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন শায়খ নুমান রিডার৷ তিনি একাধারে একজন আলেম, উদ্যোক্তা, মোটিভেশনাল স্পীকার এবং আন্তর্জাতিক দাঈ, এছাড়াও পৃথিবীর বহুদেশ সফর করেছেন বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন যেখানে তিনি বিশ্বমোড়লদের সামনে রিডফোর্ড মাদ্রাসার দর্শন তুলে ধরেছেন৷

এমএসএম / এমএসএম