অব্যাহত আমলে সমৃদ্ধ জীবন
জীবনে ধারাবাহিকতা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ নিয়মিতভাবে করলে একসময় তার সুফল পাওয়া যায়। ধারাবাহিক আমল করে যাওয়ার উপকারিতা অনেক। এর মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসা অর্জন করা যায়। ধারাবাহিক আমলে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি একজন মুমিনের পরম পাওয়া। হাদিসে কুদসিতে আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘আমি যা কিছু আমার বান্দার ওপর ফরজ করেছি, তা দ্বারা কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না।
বান্দা সর্বদা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। একপর্যায়ে আমি তাকে এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নিই যে আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)
প্রতিটি আমলই নিয়মিত করা চাই; অল্প হোক তবু তাতে ধারাবাহিকতা রক্ষার সওয়াব ও ফজিলত অনেক বেশি। কিছু মানুষ সপ্তাহে এক দিন মসজিদে আসেন, মাঝেমধ্যে দুয়েক ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, অনেকে এক রাতে বারো রাকাত তাহাজ্জুদ পড়েন, তারপর অনেক দিন খবর থাকে না; খণ্ড খণ্ড এসব ইবাদত ও আমলের সওয়াব তো অবশ্যই পরকালে সঞ্চিত হবে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার কছে এর বিশেষ মূল্য নেই। এভাবে সপ্তাহে এক দিন নামাজ পড়ায় কোনো ফজিলত নেই। আবার এক দিনে কয়েক দিনের আমল করে গাফেল হওয়া যাওয়ার মধ্যেও ফজিলত নেই।
এক দিন বারো রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে এক সাপ্তাহ ঘুমানোর মধ্যে ফজিলত নেই। বরং কম ইবাদত ধারাহিকভাবে আদায় করার মধ্যে হচ্ছে প্রকৃত ফজিলত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘তোমরা সে নারীর মতো হইও না, যে তার পাকানো সুতো শক্ত করে পাকানোর পর টুকরো টুকরো করে ফেলে’ (সুরা নাহল : ৯২)। অর্থাৎ কোনো একটি কাজ করে তা বিনষ্ট করে দেওয়া ঠিক নয়। এমনিভাবে কোনো নেক আমল শুরু করে তা পরিহার করাও অনুচিত। যে নেক আমলই শুরু করা হোক তা যেন ধরে রাখা হয়। ইবাদতটা যেন নিয়মতান্ত্রিক হয়। ধারাবাহিক হয়।
কোনো ইবাদত নিয়মতান্ত্রিকভাবে করার ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শ্রেষ্ঠ নেক আমল সেটাই, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা সংখ্যায় অল্প হয়’ (ইবনে মাজা : ৪২৪০)।
অন্য এক সাহাবিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আব্দুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মতো হইও না, যে রাতে নামাজ পড়ত, কিন্তু পরে রাতে নামাজ পড়া ছেড়ে দিয়েছে’ (বুখারি : ২৫২)।
রাসুল (সা.) আমলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কখনো কখনো নফল নামাজেরও কাজা পড়েছেন। সুন্নত নামাজও ছুটে গেলে দ্বিতীয় বার আদায় করেছেন। আম্মাজান আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কোনো রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করতে না পারতেন, তখন তিনি পরদিন বারো রাকাত নামাজ আদায় করে নিতেন’ (মুসলিম সূত্রে রিয়াদুস সালেহিন : ১১৮১)।
অথচ তাহাজ্জুদ ফরজ ছিল না। ওয়াজিবও ছিল না। তবু পরদিন তা কাজা করে নিতেন। শুধু আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। নিয়মানুবর্তিতা ধরে রাখতে। নতুন বছরে আমরা নিয়ত করে নিতে পারি, অন্তত একটি ভালো কাজ প্রতিদিন নিয়মিত আদায় করব। এর মাধ্যমে অর্জিত হবে অফুরন্ত পুরস্কার, জীবন হবে সমৃদ্ধ।
Aminur / Aminur
অসুস্থতার বিনিময়ে পাপ থেকে মুক্তি
অব্যাহত আমলে সমৃদ্ধ জীবন
ধনীরা যে সত্যগুলো গোপন রাখতে চায়ঃ শায়খ মু. নুমান রিডার
শীতার্তদের পাশে দাঁড়ান
জুলুমের পরিণাম নিজের ওপরই ফিরে আসে
জুমার নামাজ কতক্ষণ পর্যন্ত দেরি করে পড়া যায়?
নতুন বছর শোভিত হোক পুণ্যে
মৃত্যুর ঘটনায় জীবিতদের কর্তব্য
তীব্র শীতে মসজিদের পথে : ত্যাগ ও প্রাপ্তি
মাদক থেকে পাপ ও অপরাধের সূচনা
আমানতদার ব্যক্তির মর্যাদা ও পুরস্কার
সাহাবিদের জীবনী চর্চার সুফল