ঢাকা রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

ভিজিএফের চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ


এম রাসেল আহমেদ, ক্ষেতলাল photo এম রাসেল আহমেদ, ক্ষেতলাল
প্রকাশিত: ১৫-৩-২০২৬ দুপুর ৩:১০

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের দাবি, প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে ৯ কেজি পর্যন্ত।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, ডিজিটাল স্কেল মিটার ব্যবহার না করে প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ক্ষেতলাল উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৫৬৮টি পরিবারের জন্য ৬৫ দশমিক ৭৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড়তারা ইউনিয়নের ১ হাজার ৫৭৮টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৫ দশমিক ৭৮০ মেট্রিক টন চাল।
নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল স্কেল মিটারে ওজন করে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। তবে বাস্তবে বালতিতে করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। পরে কয়েকটি প্যাকেট চাল ডিজিটাল মিটারে ওজন করে দেখা যায়, কোনো প্যাকেটে ৮ দশমিক ৫৫০ কেজি, কোনো প্যাকেটে ৮ দশমিক ৮০০ কেজি, আবার কোনো প্যাকেটে ৯ দশমিক ১০০ কেজি পর্যন্ত চাল রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিজন সুবিধাভোগীকে ১ থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে।
চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতেই গ্রাম পুলিশ সদস্যরা চাল বিতরণ করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বিতরণস্থলে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে কিছু সুবিধাভোগী ভিজিএফের চাল নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী চালের প্যাকেট ২০০ টাকায় কিনে নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, প্রতিটি প্যাকেটে এক থেকে দেড় কেজি চাল কম থাকায় তারা কম দামে কিনছেন।
ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী বলেন, “আমাদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৯ কেজি।”
বড়তারা ইউনিয়ন ভিজিএফ কমিটির সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হালীম বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি চাল থেকে এক থেকে দেড় কেজি কম দেওয়া নেহায়েতই অন্যায়। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ বিষয়ে বড়তারা ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তিনি এখনো শোনেননি। সকালে ট্যাগ অফিসার এসে ১০ কেজি ওজন করে উদ্বোধন করেছেন। পরে তিনি দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় চেয়ারম্যান চাল বিতরণ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৭৮ জনকে চাল দেওয়া হবে। বালতিতে করে চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেককে আলাদাভাবে ১০ কেজি করে ওজন করা সম্ভব নয়। কোনোটা দুই–তিনশ গ্রাম কম বা বেশি হতে পারে।”
বিতরণ কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা পল্লী ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা সামিউল আল সাবা বলেন, উদ্বোধনের সময় বালতিতে ১০ কেজি করে ওজন করে চাল দেওয়া হয়েছিল। পরে অন্য কাজে তিনি অফিসে চলে আসেন। এরপর যদি কেউ কম দিয়ে থাকে, তাহলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। কম দেওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ওজনে চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী বলেন, তিনি জেলা সদরে একটি সভায় রয়েছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএসএম / এমএসএম

শিবচরে অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের দুটি গরু পুড়ে ছাই

ইউএনও’র ঈদ উপহার পেলেন দুই হাতবিহীন সেই ছাকিনা বেগম

রৌমারীতে সাড়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক

রায়গঞ্জে এএসআইকে লাঠিপেটা, দুজন গ্রেপ্তার

বৃষ্টিতে চা গাছে কুঁড়ির সমারোহ

মান্দায় রফিকুল হত্যার ১১দিন পেরিলেও গ্রেফতার হয়নি কোন আসামী

বাঘায় সুন্দরী নারীর ছবি দিয়ে ফেসবুক খুলে প্রতারণা, তিন হ্যাকার গ্রেফতার

কারখানার বর্জ্যে দূষিত ফুলজোড় নদী, পরিদর্শনে বাপা

বাঁশখালীতে কালীপুর বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

সন্দ্বীপ নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের উদ্যোগে কবি হেলাল উদ্দিনের ‘সেজুঁতি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

ভিজিএফের চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

আলফাডাঙ্গায় বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস পালিত

ঝিনাইদহে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার