বিশ্বাস-অবিশ্বাসে ভেস্তে গেল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা
হঠাৎ ঘোষিত দুদিনের সরকারি ছুটিতে নিস্তব্ধ ইসলামাবাদের রাজপথ। তবে কড়া নিরাপত্তার আড়ালে পর্দার অন্তরালে চলছে ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতা। পুরো বিশ্বের নজর এখন এই শহরের দিকেই। এখানেই সাপ্তাহিক ছুটিতে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সেই বহুল প্রতীক্ষিত সরাসরি বৈঠক, যা সফল হলে থামতে পারে হাজার হাজার মানুষের প্রাণঘাতী এক যুদ্ধ।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা বিশ্বমঞ্চে দেশটির ভাবমূর্তি নাটকীয়ভাবে বদলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পাকিস্তানের প্রতি বিশ্ববাসীর দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা এখন ইতিবাচক মনোভাবে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ইপসোসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মাসের শেষ দিকেও পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিশ্বে ৯০ শতাংশ মানুষের নেতিবাচক ধারণা ছিল।তবে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন পাকিস্তানের বিষয়ে ইতিবাচক মত দিচ্ছেন। ইপসোসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগে পাকিস্তানের প্রতি বিশ্বের নেতিবাচক মনোভাবের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল। সমালোচকদের মতে, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আফগানিস্তানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন ছিল। পাকিস্তানের প্রতি এমন নেতিবাচক মনোভাব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও খোদ পাকিস্তানের ভেতরেই সবচেয়ে বেশি ছিল। দেশটির অনেক নাগরিক সরকারের বৈধতা ও রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তান এখন বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এ যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করছে। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এ যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে যাবে এবং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের অবসান ঘটবে। ১৪ দিনের এ সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এখন সবার নজর ইসলামাবাদের দিকে। সেখানে স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে চলেছে। ইপসোসের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে নিজের ভাবমূর্তি বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। দেশটি এখন একঘরে রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি কাটিয়ে বিশ্বমঞ্চে একটি প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এখন চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই তেহরান কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পথ দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস আনা-নেওয়া করা হয়। বর্তমানে ইরান কেবল সেই সব দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, যারা তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে চুক্তি করেছে। ইরানের এই সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজার টালমাটাল হয়ে পড়েছে এবং জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, এতে কারা যোগ দিচ্ছেন, এতে আলোচনার মূল বিষয়গুলো কী, সম্ভাব্য বাধাগুলো কী এবং বিশ্ব এই বৈঠক থেকে কী আশা করতে পারে। সামাজিকভাবে-ই এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষকে যুদ্ধের একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউস ইসলামাবাদে শনিবারের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে, ৮ এপ্রিল ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছিল, এই আলোচনা ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আগামীকালের পরেও ইসলামাবাদে অবস্থান করতে পারেন অথবা পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য আবারও পাকিস্তানে ফিরে আসতে পারেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পুরো যুদ্ধ চলাকালীন যাঁরা বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দূতিয়ালি করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এই আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের অন্তর্ভুক্তিকে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে মাস্কট ও জেনেভায় ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করেছিল। এ কারণে ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে তাঁদের নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে তাঁরা মনে করেন, ভ্যান্স এই সংঘাত বন্ধের ব্যাপারে অনেক বেশি আন্তরিক ও উন্মুক্ত। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী ভ্যান্স মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিরোধী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মতো পাকিস্তানে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই, যা ইরানের কাছে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। আবার ২০০৪ সাল থেকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোবহির্ভূত বড় মিত্র হিসেবেও স্বীকৃত। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জে ডি ভ্যান্সের এই সফরটি তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত যেসব দেশে স্থায়ী রাষ্ট্রদূত নেই, সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্টরা সফর করেন না। কিন্তু একটি ভয়াবহ যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য বড় হওয়ায় ভ্যান্সের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিরল ও শক্তিশালী কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষই বড় ধরনের মতপার্থক্য নিয়ে এই আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবে বেশ কিছু বড় দাবি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি প্রতিষ্ঠা করা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুদ্ধকালীন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করা। যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই শর্তগুলো মেনে নেয়নি। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের এই ১০ দফাকে কার্যকরযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরান তাদের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে রাজি আছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট এই বিষয়টিকে একটি অপরিবর্তনযোগ্য দাবি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সম্মতি জানায়নি। লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আলাদা একটি বিরোধ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের চালানো ভয়াবহ বোমা হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে।
আব্বাস আরাগচি সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন হয় যুদ্ধবিরতি বেছে নিতে হবে, নয়তো ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দায়ভার নিতে হবে।আরাগচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী লেবাননসহ পুরো অঞ্চলেই হামলা বন্ধ রাখার কথা ছিল।তবে বুদাপেস্টে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির শর্তের মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত ছিল না-যে অবস্থানে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসও অনড় রয়েছে। চীনে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খালিদ আল বলেছেন, আলোচনা শুরুর আগেই পরিস্থিতি বিষিয়ে উঠেছে। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল এই শান্তিপ্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে বাধা হিসেবে কাজ করছে। লেবাননে তাদের এই নির্বিচার বোমা হামলার উদ্দেশ্য হলো এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে পক্ষগুলো তাদের অবস্থানে আরও অনড় হয়ে পড়ে এবং আলোচনা ভেস্তে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, দুপক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের কারণে খুব দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো কঠিন। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোগাদাম তাঁর মুছে ফেলা পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তেহরান মনে করে ইসরায়েলের এসব হামলা আসলে আলোচনা নস্যাৎ করার একটি অপচেষ্টা। বর্তমানে লেবাননই হয়ে উঠেছে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। রাষ্ট্রদূত মাসুদ খালিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যখন আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন, তখন সেখানে স্পষ্টভাবে লেবাননের কথা উল্লেখ ছিল। এতে ধারণা করা হয়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ নিয়ে আগে কথা হয়েছিল। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দ্রুত পাকিস্তানের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেন এবং পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পও যুদ্ধবিরতির আওতা থেকে লেবাননকে বাদ দেন। ইরান অবশ্য লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ে অনড়। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সের মতো কিছু দেশের সমর্থনও পাচ্ছে তারা। কিন্ত সব চাবিকাঠি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবানন ইস্যুটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ইসরায়েল হামলা বন্ধ করলেই কেবল একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এর আগে সব আলোচনায় ইসরায়েলই ইরানে হামলা চালিয়ে আলোচনা ভেঙে দিয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের-হয় তারা যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে হামলা করবে, নয়তো ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে বাধ্য করবে। তবে মাসুদ খালিদ মনে করেন, দুই পক্ষই যুদ্ধের ক্লান্তিতে ভুগছে এবং একটু বিরতি চায়। তাই শেষ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি ছোটখাটো ঐকমত্য সম্ভব হতে পারে। চুক্তি হলেও তা নিশ্চিত করার মতো কোনো দেশের গ্যারান্টি বা জামিনদার হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। খালিদ বলেন, কোনো দেশই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের হয়ে গ্যারান্টি দিতে চাইবে না। এমনকি চীনও এমন ঝুঁকি নেবে না। যেকোনো চুক্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদেশগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই জামিনদার খোঁজাটা সময়ের আগে হয়ে যাচ্ছে। এই দফার প্রধান লক্ষ্য হলো পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি করা। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে শান্ত রাখতে পারে এবং লেবাননে হামলা বন্ধ করাতে পারে, তবে সেটিই হবে বড় সাফল্য। বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, এই যুদ্ধ থামানোর পেছনে ইসলামাবাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। পাকিস্তান তার জ্বালানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে রিয়াদ যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানেরও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফারওয়া আমের বলেন, ‘পাকিস্তান নিজেকে এমন এক অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে যেখান থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখা সম্ভব হয়েছে।
লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক, লন্ডন থেকে
Aminur / Aminur
বিশ্বাস-অবিশ্বাসে ভেস্তে গেল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা
পহেলা বৈশাখ: সম্প্রীতির উৎসবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক বাঙালি সত্তা
পহেলা বৈশাখের চেতনা ও ৮ই ফাল্গুন: উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে প্রাত্যহিক ব্যবহারের দাবি
সময়ের সাথে বেমানান প্যাডেল রিকশা, বিকল্প হতে পারে ইজিবাইক
বাংলা নববর্ষ উদযাপনে সেকালের আন্তরিকতা ও একালের আধুনিকতা
চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি আধুনিক মানের সরকারি হাসপাতাল দরকার
নববর্ষ ১৪৩৩ সবার জন্য হোক মঙ্গলময়
নিম্নমানের জ্বালানিতে বিলিয়ন ডলার ক্ষতি: আমরা কি তা উপেক্ষা করছি?
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরতদের মাসিক সম্মানী: আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের মহাপ্রলয়: অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ
তেলের যুদ্ধ: জিসিসির ক্ষয়, আমেরিকা-রাশিয়া-ইরানের জয়!
সড়ক দখলমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন