প্রকৃতির রক্ষক কাপ্তাইয়ের ইমরান: লোকালয় থেকে সাপ উদ্ধার করে বনে ফেরানোই যার নেশা
সাপ সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। লোকালয়ে সাপ দেখা গেলেই পিটিয়ে মেরে ফেলার প্রবণতাই আমাদের সমাজে বেশি দেখা যায়। কিন্তু সেই ভীতি আর কুসংস্কার ভেঙে ভিন্ন এক নজির গড়েছেন কাপ্তাইয়ের তরুণ ইমরান হোসেন ইমন। বিষধর বা নির্বিষ, লোকালয়ে ঢুকে পড়া সাপ পিটিয়ে না মেরে উদ্ধার করে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন তার মূল কাজ ও নেশা।
ইমরান রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেছেন। বর্তমানে তিনি 'ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ'-এর একজন সক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। বিগত তিন বছরে ইমরান কাপ্তাই ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য প্রজাতির সাপ সফলভাবে উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে অনেক বিরল ও অতি-বিষধর সাপও ছিল। দিন বা রাত যেকোন সময় খবর পেলেই উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয়ে যান তিনি। সাপ উদ্ধারের পাশাপাশি ইমরান স্থানীয় মানুষদের বুঝিয়ে শান্ত রাখেন, যেন তারা ভয়ে সাপকে আঘাত না করেন।
কথা হলে ইমরান হোসেন ইমন জানান, ছোটবেলায় সাপ নিয়ে আমার মনে ভয় আর কৌতূহল দুটোই কাজ করত। সাপের প্রতি ভালোলাগা ছিল, কারণ মনে হতো সাপ অনেক অবহেলিত প্রাণী। মানুষ সাপ দেখলেই মারতে চাইতো। মূলত এই ধারণা থেকেই সাপ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে জাগে। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তি হয়ে এক সিনিয়রের মাধ্যমে WildLife and Snake Rescue Team in Bangladesh গ্রুপে যোগ দিই। সেখানে ট্রেনিং নেওয়ার পর থেকে সাপ রেসকিউ করা শুরু করি। প্রায় ৩ বছর যাবৎ আমি সাপ রেস্কিউয়ের সাথে যুক্ত আছি। এখন পর্যন্ত আমি বিভিন্ন ধরনের সাপ রেসকিউ করেছি, বিষধর সাপের মধ্যে শঙ্খিনী, সবুজ বোরা, নির্বিষ সাপের মধ্যে বার্মিজ অজগর, গোলবাহার অজগর, হেলে সাপ, দুধরাজ সাপ, দাড়াশ, ঘরগিন্নি এমনকি বাংলাদেশের রেয়ার সাপ White-barred Kukri snake বা পাকড়া উদয়কাল রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যে সাপ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে ফসল রক্ষা করতে সাহায্য করে। তাছাড়া সাপের বিষ দিয়ে নানা ধরনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বানানো হয়। কিন্তু মানুষ প্রায়ই আবাসস্থল ধ্বংস করার ফলে সাপ লোকালয়ে চলে আসে। তখন অনেক সময় অযথা সাপ মেরে ফেলা হয়। তাই আমি সবার উদ্দেশ্য বলতে চাই, সাপ দেখলে না মেরে বন বিভাগ বা আমাদের মতো রেসকিউ টিমকে খবর দিতে। এতে করে সাপ বাঁচে, মানুষও নিরাপদ থাকে। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকবে।
প্রসঙ্গত, ইমরানের এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের এমন দায়িত্বশীল মনোভাবই পারে দেশের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করতে। ইমরানের মতো তরুণদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে আরও উৎসাহ ও সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন, যেন তারা নিরাপদে এই মহৎ কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
এমএসএম / এমএসএম
রাঙ্গামাটির বরকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিজিবির অনুদান প্রদান
সুবর্ণচরে মাদক-সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ
স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে গুলি করে ও কুপিয়ে জখম
মনপুরার কলাতলীতে অসহায় মানুষের জমির ঘাস বিক্রি, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
সুন্দরবনে অবৈধভাবে কাঁকড়া শিকার: ৮ জেলে আটক
দৌলতপুরে ইলেকট্রিক দোকানে হামলা-ভাঙচুর
আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার
বাঙ্গালহালিয়াতে চন্দ্রঘোনা থানার উদ্যোগে এক মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ সভা
পেকুয়ায় ইয়াবা-গাঁজাসহ যুবক আটক, ১ মাসের কারাদণ্ড
শরণখোলায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি মোস্তফা ভান্ডারী গ্রেপ্তার;
দাউদকান্দিতে নৌযান শুমারি ২০২৬ উপলক্ষে উদ্বোধনী র্যালি
আলফাডাঙ্গায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার'র সাথে ক্যাবের মতবিনিময়
রায়গঞ্জে চালকল বন্ধের শঙ্কা, খাদ্য সংগ্রহ ও কর্মসংস্থান নিয়ে মালিক ও শ্রমিকদের হতাশা
Link Copied