ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শনে ভূটানের GMCA প্রতিনিধি দল
কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর ঘুরে দেখেছেন ভূটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি অথরিটি (GMCA)-এর একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ) উপজেলার.সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন তারা। কুড়িগ্রামে ভূটানের প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও যোগাযোগের সম্ভাবনা যাচাই করতেই এ সফর।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ এবং সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ বদিউজ্জামানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবয়িত হলে ভূটানের সঙ্গে কুড়িগ্রামের বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ সম্পর্ক আরও বাড়তে পারে। এ সম্ভাবনা সামনে রেখেই প্রতিনিধি দলটি স্থলবন্দরটির বর্তমান সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা ও পেঁয়াজসহ মোট ২২টি পণ্য আমদানি করা যায়। একইভাবে ভূটান থেকেও বিভিন্ন পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে। তবে বর্তমানে ভারত থেকে এ স্থলবন্দর দিয়ে মূলত পাথর ও কয়লা আমদানি হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগও আছে। এর মধ্যে গার্মেন্টস ঝুট, পণ্য, জুস, টয়লেট টিস্যু, মশারি, বই ও তৈরি পোশাক উল্লেখযোগ্য। .প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এসব পণ্যের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন কোনো পণ্য দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব কি না, বন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের সক্ষমতা এবং পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা নিয়েও বিস্তারিত খোঁজ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, GMCA প্রতিনিধি দলটি ৩১ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা এবং কুড়িগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্ভাবনাময় এলাকা ঘুরে দেখা। .কুড়িগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলের ভূটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, সোনাহাট স্থলবন্দর ও চিলমারী নদীবন্দর পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। এসব জায়গা ঘুরে দেখে কুড়িগ্রামের সঙ্গে ভূটানের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগের সম্ভাবনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নেওয়া হচ্ছে।
,
জানা যায়, প্রতিনিধি দলে ছিলেন GMCA-এর ডেপুটি ডিরেক্টর কালডেন দর্জি এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর নিম লাম। সফরটি সমন্বয় করছেন ঢাকায় রয়্যাল ভূটানিজ এম্বাসির মিনিস্টার-কাউন্সেলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং। জানা গেছে, আসন্ন BEZA-GMCA Joint Working Group Meeting-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই প্রতিনিধি দলের এ সফর। বৈঠকের আগে সরেজমিনে কুড়িগ্রামের সম্ভাবনা, অবকাঠামো, স্থল ও নৌবন্দর এবং যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামে ভূটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ ভূটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত হয়ে সড়কপথে ভূটানে ফেরেন।
সেদিন ভূটানের রাজা কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম এলাকায় ভূটানের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গাটি ঘুরে দেখেন। সেখানে বিজিবির পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার ও বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সফরকালে বাংলাদেশ ও ভূটানের মধ্যে কুড়িগ্রামে ভূটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ভূটানের সরকারি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি ভূটানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গেলেফু থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দূরে। ভূটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সোনাহাট স্থলবন্দর, প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চিলমারী নদীবন্দরকে একসঙ্গে কাজে লাগানো গেলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি ও কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক নগর গড়ে তোলার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সোনাহাট স্থলবন্দর স্থলপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এবারের GMCA প্রতিনিধি দলের সোনাহাট স্থলবন্দর, কুড়িগ্রামের প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চিলমারী নদীবন্দর পরিদর্শনকে তাই ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।প্রতিনিধি দলের সফরের সময় প্রোটোকল ও সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ বদিউজ্জামান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দসহ সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রতিনিধি দলের এ সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে কুড়িগ্রামে ভূটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ আরও এগোবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সোনাহাট স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ ও ভূটানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগও বাড়বে।
এমএসএম / এমএসএম
বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সঙ্গে প্রশাসনের সংলাপ অনুষ্ঠিত
সান্তাহারে স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত
দাউদকান্দিতে ১২০ কেজি গাঁজা ও ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ ভারতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১২
সবুজের মাঝে জীবন খুঁজছে সরকার, এর মধ্যে-ই কাটা পড়লো ছায়াঘেরা পাইকড় গাছ
ঘটনা জালিয়াতির, দণ্ড সরকারি কাজে বাধার, এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হাতকড়াসহ আসামি চম্পট, এলাকায় চাঞ্চল্য
শেরপুরে জনসেবায় জেলা প্রশাসকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত
আদালতের কর্মচারীকে পুলিশ কর্মকর্তার মারধর: খাস কামরায় ক্ষমা চেয়েও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ
হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ত্রিশালে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা কৃষি জমিতে
জনতা ঘাটে পৌঁছানোর পথেই দুর্ভোগ, ভাঙা সড়কে কষ্টে মনপুরাবাসী
রায়গঞ্জে গোয়ালঘরের তালা কেটে ৪ গরু চুরি
পুনর্বাসনের দাবিতে টঙ্গীতে বস্তিবাসীর মহাসড়ক অবরোধ, ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ