ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘটনা জালিয়াতির, দণ্ড সরকারি কাজে বাধার, এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ


মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি photo মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩-৯-২০২৬ দুপুর ২:৭
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জমির ভুয়া নামজারি (খারিজ) কপি ও ডিসিআর রশিদ তৈরির অভিযোগে ওয়াদুদ মিয়া ওরফে বাবু (২৬) নামে এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
 
তবে ভুয়া বা জাল খারিজ  তৈরির অভিযোগের পরিবর্তে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় তাঁকে সাজা দেওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগের পরিবর্তে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ধারা প্রয়োগ করে বিষয়টি হালকা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, জাল কাগজ তৈরির ঘটনায় নিয়মিত মামলা হওয়া উচিত ছিল। তবে মূল অভিযোগ আড়াল করে ভিন্ন ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে স্বল্পমেয়াদি সাজা দেওয়ায় অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
 
দণ্ডপ্রাপ্ত ওয়াদুদ মিয়া মোহনগঞ্জ পৌরশহরের সাতুর এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে। উপজেলা পরিষদের ভেতরে তাঁর একটি কম্পিউটার দোকান রয়েছে। সেখানে জমির নামজারি আবেদন, চাকরির আবেদনসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা দিয়ে থাকেন তিনি।
 
স্থানীয় ভূমি অফিস, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাগডরা এলাকার মাহবুব মিয়া তাঁর কেনা পাঁচ শতাংশ জমি নামজারি করার জন্য কিছুদিন আগে ওয়াদুদকে দায়িত্ব দেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় টাকাও তাঁকে দেওয়া হয়। পরে ওয়াদুদ মাহবুবকে জমির নামজারির কপি ও ডিসিআর রশিদ দেন।
 
৩১ অগাস্ট সোমবার দুপুরে মাহবুব তাঁর প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে ওই কাগজপত্র নিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পাঠান। সেখানে কাগজপত্র যাচাই করে নামজারি কপি ও ডিসিআর রশিদ জাল বলে প্রমাণিত হয়। বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরকে জানানো হলে গোলাম মোস্তফাকে আটক করা হয়।
 
পরে মাহবুবকে ভূমি অফিসে ডেকে নিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। ওয়াদুদকে ধরতে মাহবুবকে কিছু সময়ের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর মাধ্যমে কৌশলে ওয়াদুদকে মোহনগঞ্জে ডেকে আনা হয়।
 
মাহবুব ফোন করে ওয়াদুদকে জানান, তাঁর দেওয়া নামজারি কপি ও ডিসিআর রশিদ ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। তাই টাকা ফেরত দিয়ে কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে। পরে সোমবার সন্ধ্যায় ওয়াদুদ পৌরশহরের বসুন্ধরা এলাকায় মাহবুবের দোকানে এলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পুলিশ তাঁকে আটক করে।
 
পরে রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৬ ধারায় ওয়াদুদকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের।
 
রায়ের কপিতে বলা হয়েছে, ‘ভুয়া ডিসিআর ও খারিজ কপি দাখিলের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করার মাধ্যমে সরকারি কার্য সম্পাদনে বাধা’ দেওয়ার দায়ে তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়।
 
বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মান্নু রায়হান বলেন, “এক ব্যক্তি জাল খারিজ কপি ও ডিসিআর রশিদ নিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে এলে যাচাই করে সেগুলো জাল প্রমাণিত হয়। বিষয়টি এসিল্যান্ডকে জানিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কম্পিউটার দোকানি ওয়াদুদ এসব কাগজ তৈরি করেছেন। পরে তাঁকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।”
 
তিনি বলেন, “আমি বাদী হয়ে মামলা করলে আরও বেশি সাজা হতো।”
 
অভিযানের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে থাকা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নাজির কাম-ক্যাশিয়ার সজল সরকার বলেন, “জাল খারিজ ও ডিসিআর রশিদ তৈরি করে সরবরাহ করার কারণেই কম্পিউটার দোকানি ওয়াদুদকে আটক করা হয়।”
 
তবে ভুয়া কাগজ তৈরির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় সাজা দেওয়া হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের বলেন, “ফেক ডকুমেন্ট আমি কীভাবে ট্রিট করব, সেটাই বিষয়। মূলত ফেক ডকুমেন্ট তৈরি করে আমার কাজে বাধা দিয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে যদি তাঁর বিচার করতে চাই, তাহলে এই প্রসেসেই আগাতে হবে। আর ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার না করে যদি তাঁর বিরুদ্ধে রেগুলার মামলা দিতে চাই, সেটা আমার হাতে থাকবে না। তাহলে অন্য কোনো ব্যবস্থায় যেতে হতো।”
 
তিনি আরও বলেন, “জালিয়াতির যে বিষয়টি, তা আমাদের মোবাইল কোর্ট করে বিচার করার সুযোগ নেই। কিছু কিছু দণ্ড আছে, যা আমাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করতে হয়। এটাও এরকমই।”
 
এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানতে চাইলে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মোবাইল কোর্ট মূলত যে দোষ স্বীকার করে, তাকেই দণ্ড দেয়। দোষ স্বীকার না করলে মোবাইল কোর্টে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।
 
তিনি বলেন, “যদি কেউ ভুয়া কাগজ তৈরি করে, এটি একটি জালিয়াতির ঘটনা। এর সঙ্গে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারা, অর্থাৎ সরকারি কাজে বাধা—এটি যায় না। ভুয়া কাগজ তৈরি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।”
 
পরে তাঁকে মামলার রায়ের কপি দেখানো হলে তিনি বলেন, “যদি জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে কাগজ তৈরি করার বিষয়টি আসে, এই ক্ষেত্রে ১৮৬ ধারার আইন প্রয়োগ হওয়ার কথা নয়। তবে রায়ের বিস্তারিত কপিতে কী লেখা আছে, তা দেখতে হবে।”
 
এ ঘটনায় জাল কাগজ তৈরির অভিযোগের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া দণ্ডের ধারার সামঞ্জস্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এমএসএম / এমএসএম

বাগেরহাটে নাগরিক ফোরামের সঙ্গে প্রশাসনের সংলাপ অনুষ্ঠিত

সান্তাহারে স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

দাউদকান্দিতে ১২০ কেজি গাঁজা ও ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ ভারতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১২

সবুজের মাঝে জীবন খুঁজছে সরকার, এর মধ্যে-ই কাটা পড়লো ছায়াঘেরা পাইকড় গাছ

ঘটনা জালিয়াতির, দণ্ড সরকারি কাজে বাধার, এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হাতকড়াসহ আসামি চম্পট, এলাকায় চাঞ্চল্য

শেরপুরে জনসেবায় জেলা প্রশাসকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত

আদালতের কর্মচারীকে পুলিশ কর্মকর্তার মারধর: খাস কামরায় ক্ষমা চেয়েও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ

হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ত্রিশালে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা কৃষি জমিতে

জনতা ঘাটে পৌঁছানোর পথেই দুর্ভোগ, ভাঙা সড়কে কষ্টে মনপুরাবাসী

রায়গঞ্জে গোয়ালঘরের তালা কেটে ৪ গরু চুরি

পুনর্বাসনের দাবিতে টঙ্গীতে বস্তিবাসীর মহাসড়ক অবরোধ, ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ

ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শনে ভূটানের GMCA প্রতিনিধি দল