রুনু রুপুর গ্রামের বাড়ি
রুনু আর রুপু জমজ দুই ভাই। সারাদিন ছোটাছুটি করে আর মা-বাবাকে নানান প্রশ্নে জর্জরিত করে। ওরা এক ছোট্ট শহরে থাকে বাবা, মায়ের সাথে। বাবা চাকরি করে। মা ঘরে সেলাইয়ের কাজ করে। শহরে খরচ অনেক। সেই খরচ বহন করতে দু’জনকেই কাজ করতে হয়।
রতনপুর আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুনু আর রুপু তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। বাসার কাছেই স্কুল। কখনও মায়ের হাত ধরে স্কুলে যায়, আবার কখনও বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। স্কুলে যাওয়া আসার পথে রাস্তার দুই ধারে যা দেখে তা নিয়েই ওদের অনেক কৌতুহল। নানা প্রশ্ন করে বাবা, মাকে। দুজনই গাছ খুবই পছন্দ করে। বিভিন্ন ফলের গাছ, কৃষিজমিতে হওয়া ফসল আর কৃষক সম্পর্কেও তাদের কৌতুহলের শেষ নেই। বাবা, মাকে অনেক প্রশ্ন করে।
প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে তারা ঘুরতে যায়। এবার ঠিক হয়েছে তারা তাদের দাদু বাড়িতে যাবে। দাদু বাড়িতে যাবার আনন্দে দুই ভাই খুশিতে আত্মহারা। তাদের প্রিয় দাদু ঠাকুরমার সাথে দেখা হবে। রাত্রে গল্প শুনবে। রূপকথার গল্প, ভূত-প্রেত-জীন-পরির গা ছমছম করা গল্প, আরও কত কী গল্প। মজাও করবে অনেক। দাদুর হাত ধরে সারা গ্রাম ঘুরে বেড়ানো, গরু ও ছাগলের ঘরে বার বার উকি ঝুঁকি দেওয়া, দাদুর হাত ধরে গরু ছাগলকে খাবার ভয়ে ভয়ে দেওয়া। কত যে মজা হয়!
দেখতে দেখতে সময় চলে আসে দাদু বাড়ি যাওয়ার। কী কী করবে, তার একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলেছে দুই ভাই। সে লিস্টে আগে যে সব মজা করত, সেগুলো তো আছেই সাথে যোগ হয়েছে আরো অনেক কিছু। বড় বড় গাছ দেখতে যাওয়া, গাছে চড়ে ফল পেড়ে খাওয়া, ঘুড়ি ওড়ানো, পুকুরে দাদুর সাথে মাছ ধরতে যাওয়া। মোট কথা, যত রকম মজা আছে সব করা।
তারপর এসে গেল সেই দিন। বাবা ও মাকে নিয়ে রুনু আর রুপু দাদু বাড়ির উদ্দেশ্যে বাসে চেপে বসল। বাসে জানালার পাশে বসে ওরা নানান দৃশ্য দেখতে লাগল আর একের পর এক মা- বাবাকে প্রশ্ন করতে লাগল। এক সময় তাদের বাস পৌঁছে গেল নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ডে। ওরা বাস থেকে নেমে দেখে তাদের এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য দাদু এসে দাঁড়িয়ে আছে। দুই ভাই দৌড়ে গিয়ে দাদুকে জড়িয়ে ধরল। তারপর সবাই মিলে রিক্সায় চড়ে রওনা দিলো বাড়ির পথে।
বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি বেশি দূরে না। রিক্সা থেকে নামতেই এগিয়ে এলো ঠাকুমা। এবার রিক্সা থেকে লাফ দিয়ে নেমে ঠাকুমাকে জড়িয়ে ধরল রুনু, রুপু। একজন ঠাকুরমার হাত ধরে আর একজন দাদুর হাত ধরে বাড়িতে ঢুকল দুই ভাই। ঠাকুরমা নাড়িকেলের লাড়ু, তিলের সন্দেশ খেতে দিলো দু’জনকে। তারাও আনন্দে খেতে খেতে প্রশ্নের ঝাঁপি খোলে। এসব লাড়ু কিভাবে তৈরি করেছে, কখন তৈরি করেছে নানা প্রশ্ন করে ঠাকুরমাকে।
একটু জিরিয়ে নিয়ে দাদু ডাক দিলো, সাধন, এই সাধন, কই গেলি? সাধন হলো এ বাড়ির পুরোনো কাজের লোক। দাদুর ডাক শুনে বলল, এই যে একবারে সব নিয়ে রেডি হয়েই চলে আসছি। রুনু, রুপু চোখ বড় বড় দেখল সাধন নামের লোকটার হাতে একখানা ঝাকি জাল আর একটি বালতি। বুঝতে কারো বাকি রইল না, ওরা এসেছে বলে, ওদের জন্য এখন পুকুর থেকে তাজা মাছ ধরা হবে। দুইজনই দাদুকে অনুরোধ করল, দাদু যেন রুনু আর রূপুকেও সাথে নিয়ে যায়।
দাদু কিছু বলার আগেই রুনু, রুপুর বাবা কড়া চোখে তাকিয়ে বলল, একদম না। তোমরা কেউই সাঁতার জানো না। সাঁতার না জানা কারো পুকুরে যাওয়া মোটেই ঠিক না। রুনু, রুপু ছলছল করা চোখে দাদুর দিকে তাকাল।
দাদু একটু ভেবে বলল, তোমাদের বাবা কথাটা ভুল বলেনি। তবে এটাও ঠিক, তোমাদের দুজনেরই সাঁতার শেখাটা খুব জরুরি। আর সে জন্যই উচিত পুকুরের কাছে যাওয়া। পুকুরে না নামলে সাঁতার শিখবে কী করে? কী, তোমরা সাঁতার শিখতে চাও?
রুনু, রুপু চাইইই বলে চিৎকার করে ওঠে। দাদু দু’জনকে হাত দেখিয়ে থামিয়ে বলে, আজই তো মাত্র এলে। কাল থেকে শুরু হবে তোমাদের সাঁতার শেখানো। আজ শুধু মাছ ধরা দেখবে। রুপু দাদুকে প্রশ্ন করে— দাদু পুকুরে কি মাছ আছে? রুনু জিজ্ঞাসা করে- কী কী মাছ আছে?
দাদু হেসে বলে, চলো তাহলে, নিজের চোখেই দেখবে। পুকুরে মাছ আছে নাকি। আর কী কী মাছ আছে। দাদু, বাবা আর সাধন কাকুর পেছন পেছন রুনু আর রুপু পুকুরের দিকে রওনা দিলো। মা আর ঠাকুমা তাদের বাক্স, প্যাটরা নিয়ে ঢুকল ঘরের ভেতর।
বিরাট পুকুর। টলমল করছে পুকুরের জল। সাধন কাকু জাল ফেলে। প্রথম বারেই অনেকগুলো মাছ জালে ধরা পড়ে। মাছ দেখে রুনু রুপু আনন্দে চিৎকার শুরু করে। দাদু তা দেখে বলে, এটি রুনু খাবে, ওটি রুপু খাবে। মাছ ধরা শেষ হলে দাদু জলের দিকে তাকিয়ে বলে, তাহলে কী ঠিক হলো? রুনু, রুপু চেঁচিয়ে বলে, কাল থাকে আমরা সাঁতার শিখব।
পরের সাতটা দিন যে কী আনন্দে কাটাল রুনু আর রুপু, তা বলে বোঝাতে পারবে না। যা যা লিস্টে লিখে এনেছিল, তা তো করলই, বোনাস হিসাবে শিখে গেল সাঁতার।
সপ্তাহ খানেক পরে তাদের যখন যাওয়ার সময় হলো, দাদু বলল- কী দাদু ভাইয়েরা, কেমন লাগল দাদু বাড়ি?
ওরা দাদু, ঠাকুমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, এমন আনন্দ আর কোথাও গিয়ে পাই না। গ্রাম যে কী সুন্দর! আগামী বছর আমরা আবার আসব।
দাদু চোখ মুছতে মুছতে বলে, তোমরা আসবে বলেই গ্রাম সুন্দর হয়ে তোমাদের অপেক্ষায় থাকে। গ্রামকে আর আমাদেরকে ভুলে যেও না কখনো। আবার এসো।
---
এমএসএম / এমএসএম
রুনু রুপুর গ্রামের বাড়ি
“বিষের ছায়া মায়ার অরণ্য”
“বৈচিত্র্যময় মাদারীপুর”
পুঁথির পুনর্জাগরণের
“বিরতি” স্মরণিকা চৌধুরী
“অনিন্দ্যর জন্য আকুলতা” জা কি র আ জা দ
“মাটির সুবাস ও আধুনিক নবান্ন” আব্দুল কাদের
“আতঙ্কের ছায়া” হানিফ রাজা
সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে স্মার্ট শিল্পকলা গড়তে চান রেজাউদ্দিন স্টালিন
শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর-এর ১৪টি ছোটকাকু প্রকাশিত
“শেষ দেখা হয়নি” মুহাম্মদ আকাশ মিয়া
“সিগনেচার” সামছুল আলম শিমুল