ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

“সিগারেট” তাহেরা আফরোজ


সাহিত্য ডেস্ক photo সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪-১০-২০২৬ দুপুর ৩:৪৬

রমা পায়চারি করছে পুরো বাসা জুড়ে। একবার ডাইনিং টেবিলের সামনে
দাঁড়ায় আবারও হেঁটে সরে যায়। দুম দুম করে টেবিলে কয়েকটি ঘুষি মারে।
হঠাৎ কি মনে করে রান্না ঘরে উঁকি দেয়।
“খালা দরজাটা লাগাও তো। আমি এক্ষুনি আসছি।”
বলেই দ্রুত নেমে যায় লিফটে করে। কোনোকিছু জিগ্যেস করার সময়টুকু
দেয় না। গলির মোড়ে এসে এপাশ ওপাশ তাকায়। কিভাবে কিনবে আর কোথায়ই
বা পাওয়া যায়। এসব কিচ্ছু জানে না রমা। রাস্তা পার হয়ে দ্রুত পায়ে
ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঢোকে। চোখেমুখে অস্থিরতা। আসলে এত অস্থির হবার
কি আছে নিজেও বুঝতে পারে না। সবগুলো সারি খুঁজে খুঁজে বিরক্ত।
টুকটাক কয়েকটি জিনিস নিয়ে এসে বিল কাউন্টারে দাঁড়ায়।
“আচ্ছা, আপনারা সিগারেট রাখেন না?”
“না, ম্যাম।”
“লাইটার?”
“নেই। শেষ হয়ে গেছে।”
বিল পরিশোধ করে গলির মোড়ের মুদি দোকানে ঢোকে রমা।
“ভাই, বেনসন হবে?”
দোকানি অবাক হয়ে রমার দিকে তাকায়। প্রায় দশ বছর ধরে দোকান থেকে
সদাই-পাতি নেয় রমা। কখনো তো সিগারেট খোঁজ করেনি। আজ হঠাৎ কি
মনে করে!
“নাই, আপা।”
“কোথায় পাব বলেন তো?”
“ঐ যে পিলারের পাশে পানের দোকানে পাবেন।”
রমা রাস্তা পার হয় আবারও। ছোট সাইজের আলমিরাতে পান, বিস্কুট সাজানো।
কেউ নেই। রমা উঁকি দিয়ে দেখতে চেষ্টা করে আদৌ এরা সিগারেট বিক্রি
করে কিনা। পাশের লোকটা সাথে বাচ্চা নিয়ে এসেছে। কলার থোকা থেকে কলা
নিচ্ছে। রমার দিকে তাকায় একবার। কেউ নেই দেখে রমা এদিক ওদিক তাকায়।
খানিকটা দূরে এমন আরেকটা আলমিরা সাজিয়ে বসে আছে আরেকজন। রমা
এগিয়ে যায়।
অনেক লোকের ভিড় এখানে।
রমা দাঁড়াতেই লোকটা জিগ্যেস করে,
“পান লাগবো?”
“বেনসন আছে আপনার কাছে?”
“আছে। কয় পিস?”
“পুরো প্যাকেট।”
লোকটা তাকায় রমার দিকে। বুঝতে চেষ্টা করছে রমাকে। এমন ভোলা ভোলা
চেহারার ম্যাডাম বিড়ি ফোঁকে, এটা যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।

“কোনটা নিবেন আপা? লাল নাকি সাদাটা?”
রমা হকচকিয়ে গেল এবার।
“মানে? বুঝতে পারছি না।”
“দুইরকম হয়, লাল আর সাদা।”
দোকানি দুটো প্যাকেট রমাকে দেখায়। রমা হাতে নিয়ে প্যাকেটের গায়ে লেখা
পড়তে থাকে। প্যাকেটের গায়ে ছবিটা দেখে খুব মন খারাপ হয় রমার। মানুষের
ফুসফুস আর গলার ছবি। লেখা আছে এটা খেলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
হাতে নিয়ে আনমনা হয়ে যায়। এমন ক্ষতিকর জিনিসটা কিভাবে গিফট করবে!
অথচ এটাই তার সবচেয়ে প্রিয়। রীতিমতো চেইন স্মোকার। দোকানির কথায়
হুঁশ ফেরে রমার। “কোনটা নিবেন?”
“কোনটার কোয়ালিটি ভালো?”
“দুইটা একই। তয় বেনসন কইয়া থাকলে লালটা বুঝায়। বাসা তো ওই গলিতে।
লাগলে বদলাইয়া নিয়েন পরে।”
“কিছু বলেনি অবশ্য। আর চেঞ্জ করার টাইম নাই। লালটা দিন তাহলে।”
দোকানি লালটা এগিয়ে দেয়। গোল্ডেন কালার প্যাকেট। আর সাদাটার প্যাকেট
নীল রঙের। রমার অবশ্য নীল প্যাকেটটা পছন্দ হয়েছে। “দাম কত?”
“চারশো পঞ্চাশ টাকা।”
“এত হালকা জিনিসের দাম এতো বেশি কেন? নাকি ঠকাচ্ছেন আমাকে?”
“কি যে বলেন আপা। আপনি দিনের মধ্যে কতবার আসা যাওয়া করেন। ওই গলিতে
বাসা।
“কয় পিস থাকে এক প্যাকেটে?”
“বিশ পিস। এক পিস তেইশ টাকা। নিয়া যান। অসুবিধা অইলে চেঞ্জ কইরা
নিয়েন।”
রমা বেনসনের প্যাকেটটা হাতে নিয়ে দেখে। তারপর ওড়নার আঁচলে পেঁচিয়ে
নেয়। যেন কেউ না দেখে। মনটা বিষণ্ন করে রাস্তা পার হয়ে হেঁটে আসে।
নিজেদের একান্ত সময়গুলো ভাবতে চেষ্টা করে। ভাবতে ভাবতে মনের মেঘ কেটে
গিয়ে ঝলমলিয়ে উঠে রমা। আগামীকালের স্বপ্নটা দুলতে থাকে মনের কোনে।

শান্তা / শান্তা