উপকূলে মেধাশূন্য হওয়ার আশঙ্কা
স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় অটোপাসের প্রভাবে ও বারবার নদী ভাঙনে প্লাবিত হয়ওয়ায় পড়ার টেবিলবিমুখ হচ্ছে উপকূলের শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। একই সাথে মোবাইলে আসক্তি বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। এতে উপকূলে মেধাশূন্য হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষাবিদরা।
খুলনার উপকূল কয়রায় গত বছরের ২০ মে আম্পান ও চলতি বছরে ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতি ও উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে লক্ষাধিক পরিবার৷। করোনার মধ্যে পড়ে মরার উপর খাঁড়ার ঘা। উপকূলের শিক্ষার্থীরা তাই ভুলতে বসেছে পড়ার টেবিল ও বইখাতা কী। অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসা নিয়েও কোনো ধরনের তাগিদ দিচ্ছেন না। এতে বইবিমুখ হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছে, উপকূলে একদিকে করোনা এবং অন্যদিকে ভঙ্গুর বেঁড়িবাধ। পানিতে বারবার প্লাবিত হচ্ছে বেড়িবাঁধ। বন্যা বা ঝড়-বৃষ্টির সংকেত এলেই তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ে। এসব অনিশ্চয়তার কারণে তারা পড়ার টেবিলে মন বসাতে পারছে না। উপকূলে পায় ৮০% শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস কী তা বোঝে না। তবে যাদের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে তারা ব্যস্ত থাকছে গেমস নিয়ে। সারাদেশের ন্যায় খুলনা উপকূলীয় অঞ্চল কয়রায় ও গত বছরেন মার্চ মাস থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উপকূলীয় কয়রার ছোট-বড় কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধ রয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের বাসায় গৃহশিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়াও বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষকদের মতে, গ্রামাঞ্চলের কোনো শিক্ষার্থী অনলাইনে পড়ালেখার কোনো সুযোগ পায় না। যদি একজন শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করে তাকে মাসে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খচর করতে হবে, যা উপকূলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব না বলে মনে করছেন খোদ শিক্ষকরাও।
কয়রা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানিয়া তাবাসুম জানায়, গত বছরের মার্চ মাসে কলেজ বন্ধ হওয়ার পর পড়ার টেবিলে বসা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় পড়ার প্রতি এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে দুবার বেঁড়িবাধ ভাঙা পানিতে দীর্ঘ সময় পানিবন্দি ছিলাম। এতে ক্ষতি হয়েছে ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট ও বই-খাতার।
আমাদী এলাকার অভিভাবক মুন্না সানা জানান, তার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় ছেলে খুলনায় বিএল কলেজে অনার্স করছে। ছোট মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে অটোপাসে পাস করেছে। কিন্তু তাদের পড়ালেখার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। ছেলে কলেজ ছুটির পর আর কোনোদিন পড়ার টেবিলে বসেনি। মেয়ে অপোপাস পেয়ে সেও বইবিমুখ হয়ে পড়েছে। শত চেষ্টা করেও তাদের বইমুখী করা যাচ্ছে না। যতবারই তাদের পড়ার কথা বলা হয় ততবারই তারা জানায় স্কুল-কলেজ না খুললে পড়ে কী হবে?
কয়রার শিক্ষক নেতা সাইদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অটোপাস যেমন একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত, তেমনি এর প্রভাবটাও কম নয়। ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে এইচএসসি যেটাই বলি না কোন, শিক্ষার্থীরাই পড়ার টেবিলে নেই। একমাত্র অভিভাবকরাই পারেন শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসাতে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে উপকূলের শিক্ষার্থীরা মেরুদণ্ডহীন হতে যাচ্ছে।
কয়রার কপোতাক্ষ কলেজের অধ্যক্ষ অদ্রীশ আদিত্য মণ্ডল বলেন, বর্তমান করোনা ও নদী ভাঙনের পরিস্থিতিতে উপকূলের শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে মেধাশূন্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুখবর নয়। প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি, এইচএসসিতে অটোপাস দেয়া হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, সব পরীক্ষাই অটোপাস হবে। তিনি বলেন, নতুন সিলেবাস করা হয়েছে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসার জন্য। আর শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
এমএসএম / জামান
তারাগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
২ জনের মরদেহ উদ্ধার, ১১ জন জীবিত উদ্ধার, বাসে ছিল ৪৫ জন
রূপগঞ্জে জামদানী ভিলেজ প্রকল্প পরিদর্শনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত
ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, দুই সহোদরসহ ৪ শিশু নিহত
চাঁদপুরে শুটিং করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার শুটিং ইউনিট!
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানবাহনের ধীরগতি
নবীগঞ্জে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল
সান্তাহারে হাজারো যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে নীলসাগর এক্সপ্রেস
বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত
নড়াইলে গরীব, দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ
ঈদে সাময়িক দর্শক বাড়লেও সারা বছর লোকসান টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীমঙ্গলের সিনেমা হল
বগুড়ায় মাংস সমিতি’র ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে জামায়াত নেতা উধাও
Link Copied