ঢাকা সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ


ফয়েজ রেজা  photo ফয়েজ রেজা
প্রকাশিত: ২৩-১২-২০২২ রাত ১০:৪৫
সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছিল আওয়ামী লীগের। এই দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। জীবন ও রক্ত দিয়ে অর্জন করেছিল স্বাধীনতা। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই দলটির সাথে সেঁটে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। যাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ 'যার যা ছিল, তাই নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিল এবং স্বাধীনতা অর্জনের পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও মুক্ত করেছিল এবং তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল দেশ পরিচালনার দায়িত্ব। কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা দলের নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের যুদ্ধে অংশ গ্রহণের ঘটনা বিরল। আওয়ামী লীগ সেই রাজনৈতিক দল, যে রাজনৈতিক দলের নেতার আহ্বানে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ তাদের নিজেদের জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছে। সম্ভ্রম হারিয়েছে। শুধু তাই নয়, জীবন ও সম্ভ্রম হারানো পর অবশিষ্ট যা ছিল, তা দিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছিল। এখানে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অর্জন বা সংগ্রাম থেমে যায়নি। 
 
অপ্রত্যাশিত হলেও সত্য, যে দেশের বহু মানুষ একসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, সেই বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক পথভ্রষ্ট ও ক্ষমতা লিপ্সু সামরিক কর্মকর্তার হাতে প্রাণ দিয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান, যাঁর সংগ্রাম নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল থেকে গণমানুষের দলে রূপান্তরিত হয়েছিল। 
 
এত বৃহৎ অর্জনের পরেও আওয়ামী লীগ বহু বছর নতুন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। দলের মধ্যে ভাঙন, দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ, অতীতের আদর্শ থেকে সরে আসা সহ বহুবিধ পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যিনি বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। গত ১৪ বছর ধরে আছেন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এর আগেও ৫ বছর শাসন করেছেন বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসার আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের শাসকের বিপরীত স্রোতে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন। রাজপথে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে গণতন্ত্রের মানসকন্যা খ্যাতি পেয়েছেন। দেশ শাসনের দায়িত্ব পাওয়ার পর মানুষের ভাত-কাপড়ের নিশ্চয়তাসহ উন্নত জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেছেন। দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যকর, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনসহ বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগের কারণে দেশের মানুষের কাছে তিনি যেমন আস্থার প্রতীক, তেমনি শক্ত শাসন ও নিয়ন্ত্রণের কারণে আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছে সমালোচিত। এমন প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২ তম সম্মেলন। এই সম্মেলন থেকে নির্বাচিত হবে আওয়ামী লীগের আগামী দিনের নেতৃত্ব। কে হবেন আওয়ামী লীগের আগামী দিনের নেতা? এই নিয়ে দলের ভেতরে খুব বেশি আলোচনা নেই। কারণ এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প কথা ভাবেন না। সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প ভাবনা আছে। তবে সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প কে হবেন বা হতে পারেন, তা নির্ধারণে দলের বর্তমান সভানেত্রীর মতামত বিশেষ গুরুত্ব পাবে তা অনুমান করা যায় অতীতের দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিবেচনা করে। 
 
এবার আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বা সাধারণ সম্পাদক যিনি নির্বাচিত হবেন, তাঁকে নতুন যেসব সংকট মোকাবেলা করতে হবে, তার একটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ইশতিহার আগে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এবার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। নতুন নেতৃত্বকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। কারণ- স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কথা যখন বলা হচ্ছে, তখন দেশ একটি অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বহুদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে দল ও দলের নেতাদের সমালোচনা আছে মানুষের কাছে। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসেব কষে দলের ভেতরে আছে কোন্দল। তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের বিভেদ আছে। সবচেয়ে বেশি যা মোকাবেলা করতে হবে, তা হলো বহু বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধী দলের ক্ষমতায় আসার তীব্র আকাঙ্খা।

এমএসএম / এমএসএম

ইসলামের নামে রাজনীতি, নাকি মদিনা সনদের আলোকে ৩১ দফার বাস্তবায়ন: রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা কোন রাজনৈতিক দর্শনে?

এমন একটা সরকার চাই

পবিত্র শবে বরাত: হারিয়ে যেতে বসা আত্মার জন্য এক গভীর ডাক : মোহাম্মদ আনোয়ার

ঘুষ, দালাল ও হয়রানি: জনগণের রাষ্ট্রে জনগণই সবচেয়ে অসহায়!

সুস্থ জীবনের স্বার্থে খাদ্যে ভেজাল রোধ জরুরী

আস্থার রাজনীতি না অনিবার্যতা: তারেক রহমান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক শূন্যতা!

রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন পরীক্ষায় ত্রয়োদশ নির্বাচন

নির্বাচনী ট্রেইনে সব দল, ক্ষমতার চূড়ান্ত মালিক জনগণ!

ঈমানের হেফাজতের নগরী মদিনা: মক্কার চেয়ে দ্বিগুণ বরকতের অন্তর্নিহিত রহস্য!

বিপ্লবের আশা-আকাঙ্ক্ষার যেন অপমৃত্যু না হয়

গণমানুষের আস্থার ঠিকানা হোক গণমাধ্যম

নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা: সরকার-বিরোধী উভয়েরই কল্যাণকর

শবে মেরাজের তাজাল্লি ও জিব্রাইল (আ.) এর সীমা: এক গভীর ও বিস্ময়কর সত্য!