কৃষকদের লোভ দেখিয়ে যমুনার চরাঞ্চলে ‘বিষবৃক্ষ তামাক’ চাষ
দেশি-বিদেশি সিগারেট-বিড়ি কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করছে প্রান্তিক চাষিদের। এই তামাক চাষে অগ্রিম টাকা দেওয়ায় টাঙ্গাইলের কৃষকরাও তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে তামাক চাষে সয়লাব হয়ে গেছে জেলার চরাঞ্চলের ফসলি জমিগুলো। এতে করে যেমন উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি, তেমনি দিন দিন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
জানা গেছে- জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে কালিহাতী, গোপালপুর, নাগরপুর, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর এবং দেলদুয়ার উপজেলায় বেশি তামাক চাষ হচ্ছে। টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে জেলায় তামাক চাষের কোন পরিসংখ্যান না থাকলেও যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিষবৃক্ষ তামাক চাষ হচ্ছে। এ তামাক চাষে সবচেয়ে বেশি নারীরা কাজ করে থাকেন।
সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার চরাঞ্চল দূর্গাপুর ইউনিয়নের চরহামজানী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়- বাড়িতে বাড়িতে চলছে তামাক পাতা শুকানোর কাজ। রোদযুক্ত স্থানে বাঁশের মাচায় তামাক পাতা শুকানো হচ্ছে। নারী-পুরুষ ও শিশু সবাই তামাক চাষ এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত। তাদের মুখে মাস্ক নেই- শরীরে নেই পোষাক। পুরো গ্রামের বাতাসে তামাকের তীব্র গন্ধ ছড়াচ্ছে।
তামাক চাষী ফরিদুল ইসলাম, রায়হান আলী, হারেছ মিয়া, শুকুর মামুদসহ অনেকেই জানান, ব্রিটিশ-অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানী ও আকিজ টোব্যাকো কোম্পানী তামাক চাষে কৃষকদের বীজ, সার, বিষ, ত্রিপল ও কাগজসহ উৎপাদনের যাবতীয় সামগ্রী দিয়ে থাকে। আবার তারাই তামাক পাতা কিনে নেয়। চাষিরা শুধু চাষ করে তামাক পাতা রোদে শুকিয়ে সরবরাহ করে থাকেন।
তামাক চাষী সুরুজ মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে তামাক চাষ করছেন। তামাক চাষে অন্য ফসলের তুলনায় দ্বিগুন লাভ হয়। শরীরের ক্ষতি ও পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। কিন্তু লাভও তো অনেক বেশি হয়। তাই তামাক চাষ করেন। প্রতি কেজি তামাক প্রকারভেদে ১৩০-১৫০ টাকায় কোম্পানী কিনে নেয়। পাতার আকার ও সংরক্ষণের প্রকারভেদে কোম্পানী দাম কম-বেশি নির্ধারণ করে। কোম্পানীর লোক ছাড়া বাইরের কেউ তামাক কিনে না, বিক্রি করারও সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মী সোমনাথ লাহিড়ী জানান, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান দাদন দিয়ে কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করে। গ্রামের অসহায় কৃষক না বুঝে তাদের জমি ও জীবনের চরম ক্ষতি করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গণসচেতনতা এবং তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা দরকার। যাতে আসক্তরা সহসাই কিনতে না পারে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেণ্ট বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর এএসএম সাইফুল্লাহ জানান, তামাক চাষের প্রক্রিয়া থেকে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন এবং ব্যবহার পুরোটাই পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাক চাষে বিভিন্ন প্রকার রায়াসনিক ব্যবহার করা হয়। যা পানি ও বায়ুকে ভীষণভাবে দূষিত করছে। মাটি উর্বরতা হারাচ্ছে। বেশি লাভে তামাক চাষ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন তামাক চাষে যুক্ত থাকলে ক্যান্সার, পেটের পীড়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, চর্ম, বুক ও ঘাড়ে ব্যাথাসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া তামাক চাষীদের সন্তনদের ‘গ্রীণ টোবাকো সিন্ড্রম’ নামে এক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
টাঙ্গাইল জেলায় তামাক চাষে লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ-অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানী ও আকিজ টোব্যাকো কোম্পানীর স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তবে তারা কোম্পানীর দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে থাকেন বলে জানান।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, তামাক চাষের বিষয়ে সরকারিভাবে তাদের কোনো নির্দেশনা নেই। তাই এ ক্ষেত্রে তারা কোন মতামত ও তামাক চাষে হস্তক্ষেপ করেন না। তবে তামাক চাষ রোধে গণসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারেরও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এমএসএম / এমএসএম
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকাগামী ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড়, ছাদে বসেও ফিরছে মানুষ
হাটহাজারীতে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
ধামইরহাটে উমার ইউনিয়নবাসীর খাদেম হতে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসাদ্দেকুর রহমান পিন্টু
নরসিংদীতে অনুমোদনহীন হাসপাতালে অভিযান, একটিকে সিলগালা, অপরটিকে জরিমানা
মাদারীপুরে গাছের মগডালে ঝুলছিলো মাইক্রো চালকের মরদেহ
নন্দীগ্রামে দিগন্ত শিক্ষা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ
চৌগাছায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ
পাবনা থেকে কাজের সন্ধানে এসে মাগুরায় বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু
মনোহরদীতে গাঁজা সেবনের দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড
অবৈধ তেল মজুদে গোপালগঞ্জে জরিমানা
দাউদকান্দিতে আগাম সরগরম ভাইস চেয়ারম্যান পদ: বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূলে চুলচেরা বিশ্লেষণ
সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডে ২৪ টি গরু-ছাগল পুড়ে ছাই, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা