উদ্বোধনের আগেই ধ্বসে পড়া কাশিমপুর সড়ক পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি
পাউবো’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (গাসিক) কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়া বহুল আলোচিত সড়কটি গত শনিবার (২৮ মার্চ) উচ্চপর্যায়ের সরকারি তদন্ত কমিটি সরজমিনে পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা এবং তদন্ত কমিটির সদস্য দেওয়ান আইনুল হক সড়ক নির্মাণে সিটি কর্পোরেশনের ভয়াবহ অনিয়ম ও নদী দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। পরিদর্শনকালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১) দেওয়ান আইনুল হক জানান, এলাকাটি মূলত সিএস রেকর্ড অনুযায়ী তুরাগ নদের অংশ। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের আমলে স্থানীয়দের জানমাল রক্ষায় এখানে একটি অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, যার কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৯-২০০০ সালে সেখানে কিছু ব্রিক ব্লকের কাজ করা হয়। তিনি আরও জানান, “২০২০সালের দিকে যখন সিটি কর্পোরেশন নদীর জায়গা দখল করে এই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে কাজ বন্ধ করার জন্য জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ-র সীমানা নির্ধারণ বা পাউবো’র ছাড়পত্র ছাড়া নদীর জমিতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই দুই লেয়ারে পাইল (ঢ়রষব) দিয়ে নদী ভরাট করে এই নড়বড়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল।” স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ আকনুর রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত ৮ (আট) সদস্যের তদন্ত কমিটি ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে সড়কের ধ্বসে যাওয়া অংশের প্রমাণ সংগ্রহ করেন। কমিটির সদস্যরা দেখেন, বিটুমিনাস কার্পেটিং শেষ হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় বিশাল এলাকাজুড়ে সড়কটি ধ্বসে কয়েক ফুট নিচে দেবে গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, নদীর ওপর অপরিকল্পিত পাইলিং এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত সদস্যগণ হলেন:
১. ড. মোঃ আকনুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব, নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ (আহ্বায়ক)। ২. মুহাম্মদ সোহেল হাসান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (সদস্য)। ৩. আবুল খায়ের মুহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান, যুগ্মসচিব, পরিকল্পনা-২ অধিশাখা, স্থানীয় সরকার বিভাগ (সদস্য)। ৪. বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) (সদস্য)। ৫. মোঃ তানভীর সিদ্দিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, রোড ডিজাইন ও সেফটি সার্কেল, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সদস্য)। ৬. মোঃ আনিসুল ওয়াহাব খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ডিজাইন ইউনিট, এলজিইডি (সদস্য)। ৭. দেওয়ান আইনুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা পানি উন্নয়ন সার্কেল-১, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (সদস্য)। ৮. মোঃ রবিউল ইসলাম, উপসচিব, সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা, স্থানীয় সরকার বিভাগ (সদস্য-সচিব)। উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এলাকাটি পরিদর্শন করে এই দুর্নীতির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় তিনি তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুনুর রশীদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। একইসাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউসিসিএল (টঈঈখ)-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান সরকারসহ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, তড়িঘড়ি করে এবং জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এই নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। পাউবো’র নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন এবং কার মদতে এই কাজ চলল, তা খুঁজে বের করার দাবি জানান তারা। তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মোঃ আকনুর রহমান বলেন, “আমরা কারিগরি ত্রুটির পাশাপাশি প্রশাসনিক অবহেলার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছি। আগামী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে দোষীদের চিহ্নিত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা হবে।”
Aminur / Aminur
পাউবো’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য
উপ-পরিচালক ডা. তউহিদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়ালে বছরে তেল বাবদ বেশি খরচ হবে ৬১০০০ কোটি টাকা
রক্তের আল্পনায় ঈদযাত্রা ২০২৬: সড়ক, রেল ও নৌপথে অব্যবস্থাপনার পৈশাচিক উৎসব
রাষ্ট্রীয় অর্থে ‘রাক্ষুসে থাবা’
বিআরটিএর ভাতিজা রফিক এর তোঘলতি বদলি বাণিজ্য
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম গিলে খাচ্ছে চট্টগ্রামের বনাঞ্চল
তথ্যপ্রাপ্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রদানে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বিপ্লব কুন্ডু
‘ফাঁসির মঞ্চ’ থেকে ফিরে সংসদে যাচ্ছেন যারা
এনবিআর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের এত সম্পদের উৎস কোথায়
চট্টগ্রামে ফরেস্ট চেক স্টেশন ধুমঘাটে ডেপুটি রেঞ্জার ইলিছুর রহমান এর চাঁদাবাজি
বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ