ঢাকা বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মৃত্যুর আগে হুমকির বার্তা, সাভারে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন


আহ‌মেদ জীবন, সাভার photo আহ‌মেদ জীবন, সাভার
প্রকাশিত: ২-৯-২০২৬ দুপুর ২:৩৭

সাভারে মিফতাহুল জান্নাত শ্যামলী মণ্ডল নামে এক কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। পরিবারের ভাষ্য, হাসপাতাল কোয়ার্টারের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। মায়ের অভিযোগ, সাবেক স্বামী রিপন মণ্ডলের দীর্ঘদিনের হুমকি, গালাগালি, অপমান ও হয়রানির মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে বাবার দাবি, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার আগে শ্যামলীর মোবাইলে পাঠানো কথিত হুমকিমূলক বার্তা, স্কুলের সামনে হয়রানির অভিযোগ, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং মৃত্যুর আগে তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি এখন তদন্তের কেন্দ্রে। অন্যদিকে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে ও কথিত পরকীয়ার বিষয়টি নিয়েও বাবার পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে আত্মহত্যা, হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে কিশোরীর মৃত্যু-তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

নিহতের মা মৌসুমী আক্তার ও যমজ বোন মেহরিন জান্নাতের অভিযোগ, ২০২৩ সালে রিপন মণ্ডলের সঙ্গে মৌসুমীর বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই দুই মেয়েকে বিভিন্নভাবে হুমকি, গালাগালি ও হয়রানি করা হতো। কখনো স্কুলের সামনে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো, আবার কখনো মারধর ও মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতেন রিপন মণ্ডল।

পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর প্রায় তিনদিন আগে রিপন মণ্ডল হাসপাতালের বাউন্ডারির পাশে এসে শ্যামলীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগেরও চেষ্টা করেন তিনি।

মৌসুমীর ‌মোবাই‌লে ‌রিপন মন্ড‌লের নম্বর ব্লক করা থাকায় সরাসরি যোগাযোগ করতে না পেরে রিপন শ্যামলীর মোবাইলে মাকে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্যসহ ক্ষুদে বার্তা পাঠান বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহতের জমজ বোন মেহরিন জান্নাত জানান, ওই বার্তা পাওয়ার পর শ্যামলী প্রচণ্ড কান্নাকাটি করে এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরদিন সকালে না খেয়েই স্কুলে যায়। স্কুল থেকে ফিরে হাসপাতাল কোয়ার্টারের একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর কয়েকদিন আগেও স্কুলে গিয়ে রিপন মণ্ডল মেয়েদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছিলেন। এসব ঘটনার কিছু অংশের আলামত স্কুল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে।

মৌসুমী আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই রিপন মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। সংসারের ব্যয়ভার ঠিকমতো বহন না করা এবং তাঁর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিতেন রিপন মণ্ডল।
এসব ঋণের দায়ভার তাঁকে বহন করতে হয়েছে।

এ ছাড়া রিপনের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি, পরনারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং সংসারে অভাব-অনটন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রিপনের বিরুদ্ধে পরনারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ছিল। একপর্যায়ে তাঁকে এমন অবস্থায় স্থানীয়রা আটক করে মারধর করেন এবং পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত একটি মুচলেকা পরিবারের কাছে রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মৌসুমী আক্তার রিপন মণ্ডলকে তালাকের নোটিশ দেন।

বিবাহবিচ্ছেদের পর মৌসুমী সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে কর্মরত থাকার সময় একই হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. আশরাফুল আলম আরিফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বিয়ের পর ডা. আরিফ মৌসুমীর আগের সংসারের দুই মেয়ের দায়িত্ব নেন এবং তাঁদের ভরণপোষণে সহযোগিতা করতেন।

মৌসুমীর অভিযোগ, এরপর থেকেই সাবেক স্বামী রিপনের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়। বিভিন্ন সময়ে হুমকি, গালাগালি, স্কুলের সামনে ভয়ভীতি দেখানো এবং মেয়েদের মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ করেন তিনি।

মৌসুমী জানান, মৃত্যুর আগের দিন শ্যামলীর মোবাইলে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটি দেখার পর থেকেই সে কান্নাকাটি করছিল এবং খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়।

তবে ওই বার্তার প্রকৃত বিষয়বস্তু কী ছিল, কে পাঠিয়েছিল এবং সেটির সঙ্গে কিশোরীর মৃত্যুর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার দিন ডা. আশরাফুল আলম আরিফের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর দাবি, সকালে ব্যক্তিগত কাজে তিনি সাভারের ব্র্যাক ব্যাংকে যান। পরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সাভার শাখায় অবস্থান করেন।

এরপর দুপুরে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে বাসায় যান। সেখানে দুপুরের খাবার ও নামাজ শেষে বিকেলে সাভারের সেবা ক্লিনিক ও সিমা ক্লিনিকে যান। পরে হেমায়েতপুরের আলশিফা ক্লিনিকে রোগী দেখার সময় রাত ৯টার দিকে মৌসুমী ফোন করে মেয়ের আত্মহত্যার খবর দেন বলে জানান তিনি।

ডা. আরিফ জানান, ঘটনার দিন তাঁর চলাচলের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ক্লিনিক ও এলাকার সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব।

অন্যদিকে মৌসুমী বলেন, ডা. আরিফ তাঁর সঙ্গে হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকতেন না এবং গত প্রায় এক বছর সেখানে যাননি। তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে কোয়ার্টারে থাকতেন। ডা. আরিফ তাঁর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পৃথক ফ্ল্যাটে থাকেন বলেও জানান তিনি।

মৌসুমী জানান, ডা. আরিফের সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কও অল্প সময়ের ছিল। পরে পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে বিরোধের কারণে তাঁরা আলাদা হয়ে যান। তবে তাঁর ও মেয়েদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া এবং পরস্পরকে হয়রানি না করার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। এ কারণে ডা. আরিফের বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।

ডা. আরিফের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে কথিত অপসাংবাদিক ও ভুয়া টিকটকারদের ব্যবহার করে তাঁকে চাপ ও হয়রানি করা হয়েছে-এমন অভিযোগও উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মৃত্যুর ঘটনায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপন মণ্ডল।

রিপনের দাবি, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেনি; তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মায়ের কথিত পরকীয়ার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে নিহতের মা ও বাবার পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দেওয়া হয়। ফলে এখন নিহতের মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তা ও কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ, যমজ বোনের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন-সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে মৃত্যুর আগে শ্যামলী কী ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে ছিল, তাকে কেউ হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়েছিল কি না এবং সেই চাপ তার মৃত্যুর সিদ্ধান্তে কোনো ভূমিকা রেখেছিল কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, মেয়েটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা ও বাবার পক্ষ থেকে পৃথক দুটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। তবে আপাতত ঘটনাটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি বলেন, বাবার মানসিক চাপের কারণে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

এমএসএম / এমএসএম

দাউদকান্দিতে ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, এক্স নোহাসহ গ্রেপ্তার ২

বরগুনায় বাসে অভিযান, ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

তেঁতুলিয়ায় অপপ্রচার ও মানহানির প্রতিবাদে বিএনপি নেত্রীর সংবাদ সম্মেলন

মৃত্যুর আগে হুমকির বার্তা, সাভারে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন

কুড়িগ্রামে ৪ জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া আন্তঃস্কুল ফুটবলে জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়

চন্দনাইশে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

শালিখায় ৫ বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, আটক ১

শ্যামনগরে কৃষকের হাঁস-মুরগির ঘর থেকে অজগর সাপ উদ্ধার

টঙ্গীতে স্যাগ ফ্যাশনের শ্রমিকদের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল লেখা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

টুঙ্গিপাড়ায় কোর রোড নেটওয়ার্ক ও সড়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণে এলজিইডির কর্মশালা

পটিয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বৃদ্ধা-নাতনিকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে আগুন, পুড়ল দুই বসতঘর