বিপাকে ঋণগ্রহীতারা
নিয়ামতপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত এনজিওকর্মীরা
নওগাঁর নিয়ামতপুরে বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিস্তি আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ১৫টি নির্দেশনা দিয়ে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ, যার ৫নং নির্দেশনায় সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে- সকল এনজিও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কিন্তু নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিয়ামতপুরে বেশকিছু এনজিওকর্মী কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।
উপজেলার সদরে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়াও অনেকে এনজিও থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে যায় পরিবহনসংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের। এমন পরিস্থিতিতে এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। অধিকাংশ এনজিও বিবাহিত নারীদের সমিতির মাধ্যমে ঋণ দিয়ে থাকে। এমন সময়ে এসব ভুক্তভোগী খেটে খাওয়া ঋণগ্রহীতা যখন তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে কিস্তি আদায় করছেন।
মঙ্গলবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় সরেজমিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুড়িহারী গ্রামে দেখা যায়, উদ্দীপন শাখার শাখা ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন নিজ গাড়ি রেখে হাসনায়ারা বেগমের বাসায় কিস্তি আদায় করছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যান। অফিসে গিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা আসলে তাদের খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম, কিস্তি আদায় করতে নয়।
একই গ্রামে কিস্তি আদায় করতে আসেন ব্র্যাকের (দাবি) কর্মী অনিতা। তাকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি কর্কশ ভাষায় বলেন, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে। যারা কিস্তি দেবে তাদেরগুলো নেব আর যারা ঋণ প্রস্তাব করবে তাদের ফরম পূরণ করব। তার কাছে শাখা ব্যস্থাপকের নাম্বার চাইলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাক্ষাতে শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের কিস্তি আদায় বন্ধ রয়েছে। তিনি তৎক্ষণাৎ ফোনে কর্মী অনিতাকে চলে আসতে বলেন।
মুড়িহারী গ্রামের নাজমা বলেন, এখন নিয়ামতপুরে কঠোর লকডাউন চলছে। গ্রামের লোকজন কাজ করতে পারছে না। কাজ না থাকায় সংসার চালানো নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিস্তির চাপ দেয়ায় এখন নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে।
হাসনেয়ারা বলেন, আমার ছেলে ট্রলিতে কাজ করে। লকডাউনে উপজেলা সদরে ট্রলি ঢুকতে দিচ্ছে না। ফলে আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এখন পেট চালাব না কিস্তি দেব- কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।
রোজিনা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমার স্বামী দিনমজুরির কাজ করেন। লকডাউনে কাজ কম হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। কিস্তি আদায় বন্ধ থাকলে আমারা হাঁফছেড়ে বাঁচতাম।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, আমরা সকল এনজিওকে কিস্তি আদায় করতে নিষেধ করেছি। আমার অফিস থেকে তাদের বারবার ফোন করা হয়েছে। ব্র্যাকের দুজন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তাদের সবাইকে নিজ অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। তারপরও কিস্তি আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএসএম / জামান
পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কর্মকর্তার স্বজনদের নাম ফ্যামিলি কার্ড গণনাকারী নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায়
শিক্ষার জন্য কাজ করাই কি জাহাঙ্গীর আলমের অপরাধ?বাদ দেওয়া নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন
গৌরনদীতে ব্র্যাকের যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল
নোয়াখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, হামলায় আহত ৪
মোহনগঞ্জে গৃহবধূ মুন্নী আক্তার হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
মিষ্টিতে পোকা ও অতিরিক্ত সেবামূল্য: চাঁদপুরে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ঘোড়াঘাটে তাসফিয়া মৃত্যুর তিন দিনের ধোঁয়াশা: পলাতক সৎ বাবা
ছবির ভাষায় জয়পুরহাট, বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসে কর্মশালা ও প্রদর্শনী
বকেয়া বেতন নয়, কারখানা বিক্রির কথা শুনে সড়কে শ্রমিকেরা
যশোরে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র চালুর দাবি
বাগেরহাটে পোষ্য প্রানী প্রদর্শনী-২০২৬ উযযাপন