ঢাকা রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

নিয়ামতপুরে ধানক্ষেতে ঝা‍ঁকে ঝাঁকে বক পাখির আনাগোনা


নিয়ামতপুর প্রতিনিধি  photo নিয়ামতপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৪-২-২০২২ দুপুর ৩:২৬
ঝাঁকে ঝাঁকে কানি সাদা বক, কীটপতঙ্গ পুঁটি মাছে লোভাতুর চোখ করে চক চক। উঁচিয়ে দীর্ঘ গলা মত্ত যখন শিকারের নেশায় ফেলে পা, জানে না পড়বে কখন কার পাতা ফাঁদে। অজানা শঙ্কা ভয়ে ছম ছমে গা, খাবার খেতে গিয়ে নিজে হয় অন্যের খাবার তাতে যায় আসে কার। উড়ে যায় সাঁঝ বেলা ডানা ঝাপটে আকাশ নীলিমায় রেখে যায় চিহ্ন ঝরে পরে পালক নদী বিল জলাশয়ে। অবাক বিস্ময়ে সৌন্দর্য খোঁজে বুড়ো, যুবক, যুবতী, বালক কবি ইকবাল কবীর রনজুর বক কবিতায় ঠিক এভাবেই ব্যক্ত করেছেন বকের করুণ পরিণতি।
 
বোরো মৌসুমে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ফসলের মাঠে চলছে চাষ ও ধান রোপণ। সেচের পর জমিতে পাওয়ারটিলার দিয়ে চাষ হচ্ছে। সেচ ও চাষের সময় মাটিতে লুকিয়ে থাকা পোকামাকড় উঠে আসে। সেসব পোকা খেতে জমিতে বাড়ছে বকের আনাগোনা। বোরো ধানক্ষেতে আসছে সাদা, ধূসর রংয়ের বকের সারি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাবারের খোঁজে জমির ওপর উড়ে বেড়ায় তারা। বকের পাশাপাশি ফিঙ্গে-শালিক ওড়াউড়িও চোখে পড়ার মতো। সুযোগ পেলেই জমিতে নেমে পড়ে খাবারের খোঁজে। নিয়ামতপুর উপজেলার শালবাড়ী, হরিপুর, দারাজপুর, রাজাপুর, রশিদপাড়া, শ্রীমন্তপুর, ফুলহারা, ফুলহারা বড় সমাসপুর মাঠের ধানক্ষেতে দেখা মেলে প্রচুর বক। জমিতে নেমে পোকামাকড় ধরে গিলে ফেলে তারা।
 
উপজেলার ফুলহারা গ্রামের নূরুন নবী জানান, আমাদের এখানে মাঠঘাটে প্রচুর বক দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ফসলি জমির মাঠে ও বাঁশঝাড়ে। ‍এই মুহূর্তে শামুকখোলা ও কানি বকের সংখ্যাই বেশি।
 
তিনি আরো জানান, ধূসর রংয়ের বক স্থানীয়দের কাছে কানি বক নামে পরিচিত। এরা একা একা কীটপতঙ্গ ধরে খায়। আর সাদা বক দলবদ্ধভাবে উড়ে বেড়ায়। ঝাঁকে ঝাঁকে কৃষি জমির উপর দিয়ে উড়ে বেড়ায়। পানি আছে এমন জমিতে গিয়ে বসে।
 
দারাজপুর গ্রামের রানা বাবু জানান, এখন থেকে ১০-১৫ বছর আগে যে পরিমাণ বক দেখা যেত, বর্তমানে তেমন দেখা যায় না। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফসলি জমিতে বক বেশি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এখন চিরন্তন বাংলার সাহিত্য অলংকার ও গ্রামের ঐতিহ্য অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক এই সাদা বক আগের মতো আর দেখা মেলে না। পাখিটি বৈষয়িক পরিবেশ দূষণ, লোভী পাখি শিকারিদের ক্রমশ ফাঁদে পড়ে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
 
উপজেলা কৃষি অফিসার আমীর আব্দুল্লাহ ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, কৃষির জন্য বক অনেক উপকারী। সুন্দর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বাঁচিয়ে রাখার জন্যে আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে শস্য উপকারী পাখি ফসলি জমি থেকে ক্ষতিকর পোকামাকড় নির্ভয়ে খেয়ে ফেলতে সুযোগ পাবে। এতে মাটি তার পরিপূর্ণ পুষ্টিতা পাবে, ফসল ফলবে ভালো। আর কৃষক হবে লাভবান। অন্যদিকে রক্ষা হবে দেশি বক পাখির অভয় নিবাস।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বক আমাদের একটা প্রাকৃতিক বন্ধু। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন কীটনাশক ব্যবহার কমাতে হবে। যাতে বিষাক্ত মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে বক পাখি না মারা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এমএসএম / জামান

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকাগামী ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড়, ছাদে বসেও ফিরছে মানুষ

হাটহাজারীতে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ধামইরহাটে উমার ইউনিয়নবাসীর খাদেম হতে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসাদ্দেকুর রহমান পিন্টু

নরসিংদীতে অনুমোদনহীন হাসপাতালে অভিযান, একটিকে সিলগালা, অপরটিকে জরিমানা

মাদারীপুরে গাছের মগডালে ঝুলছিলো মাইক্রো চালকের মরদেহ

নন্দীগ্রামে দিগন্ত শিক্ষা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ

চৌগাছায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

পাবনা থেকে কাজের সন্ধানে এসে মাগুরায় বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু

মনোহরদীতে গাঁজা সেবনের দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড

অবৈধ তেল মজুদে গোপালগঞ্জে জরিমানা

দাউদকান্দিতে আগাম সরগরম ভাইস চেয়ারম্যান পদ: বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূলে চুলচেরা বিশ্লেষণ

সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডে ২৪ টি গরু-ছাগল পুড়ে ছাই, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা

শান্তিগঞ্জে সোনাই মিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার