ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

ফটিকছড়ি কাঁঠালের বাম্পার ফলন


ফটিকছড়ি প্রতিনিধি photo ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩০-৫-২০২২ দুপুর ১১:৩৩

ফটিকছড়িতে এবার গ্রীষ্মের সুস্বাদু ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। নিয়মমাফিক এখানে চলতি বৈশাখের শেষে পাকতে শুরু করেছে এই মৌসুমি ফল। এ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত সুমিষ্ট কাঁঠালের সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। তাই এখানকার কাঁঠালের চাহিদা দেশের অন্য এলাকার তুলনায় একটু বেশি। মাটির উর্বতার কারনে এ অঞ্চলে কাঁঠালের ফলন বেশ ভালো । কাঁঠাল দ্রুত পঁচনশীল হওয়ায় কোনো কোনো সময় লাভের চেয়ে ক্ষতির অঙ্ক কষতে হয় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের। আর এ কারণেই কাঁঠাল সংরক্ষণ ওপ্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি এ এলাকার কাঁঠাল বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের। সরকারি-বেসরকারি কোনো পন্থায় প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় বাগান মালিকেরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ এলাকায় সংরক্ষণাগার স্থাপন করা গেলে কাঁঠাল চাষে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়া যেতো। কাঁঠাল চাষের আলাদা যন্ত্র ও খরচ না থাকায় অল্প বিনিয়োগ লাভজনক আবাদ হিসেবে সাফল্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকেরা। কাঁঠাল বাগানের মালিকরা জানিয়েছে বাগানগুলোতে এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হলেও দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে না। বাগান মালিকেরা বলছেন উৎপাদিত কাঁঠালের বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকার কাঁঠাল বাগান মালিকদের গাছে কাঁঠাল ঝুলে রয়েছে। উপজেলার হাট বাজারগুলোতে কাচা ও পাকা কাঁঠাল উঠতে শুরু করেছে। এখানকার অধিকাংশ কাঁঠাল গাছগুলো বাগান ভিত্তিক না হলেও বাড়ীর আঙিনায়, রাস্তার দু’ধারে, স্কুল, কলেজের চত্তরে প্রচুর কাঁঠাল গাছের দেখা মেলে। আর এসব গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠালের দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে। চারা লাগানোর পর সাধারনত এর কোন যত্ন নেয়া হয় না। ঝড়ে যাতে ভেঙ্গে না পড়ে তার জন্য বড়জোর একটা খুঁটি ও খাঁচা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাঁঠালের চারা আপনা থেকেই বেড়ে উঠে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে এখানে ১২১০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার ১২১৫ হেক্টর জমিতে এই মৌসুমি ফলের আবাদ হয়েছে। গেল বছর যা লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩শ হেক্টর। চলতি মৌসুমে যা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ২ শ' ৮০ হেক্টর। 
জানা যায়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই কাঁঠাল এলাকার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্নস্থানে যায়। এখানকার কাঁঠাল সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। গত অর্থবছরেও এখানে  ১ হাজার ৩ শত হেক্টর জমিতে কাঁঠাল আবাদ হয়। আর বাজারমূল্য থাকায় তখন এই সুস্বাদু ফল হাসি ফুটিয়েছিলেন অনেক পরিবারে। যার কারণে এবারও এখানকার কৃষকরা প্রচুর জমিতে কাঁঠাল চাষ করেছেন।উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাহাড়ি ভূমিতে স্থানীয় কৃষকরা কাঁঠাল ফলিয়েছেন। এরমধ্যে উপজেলার বাগানবাজার, দাঁতমারা, ভূজুপুর, সুয়াবিল, শান্তিরহাট, নারায়ণহাট, কাজিরহাট, পাইন্দং, কাঞ্চন নগর, খিরাম, হারুয়ালছড়িতে এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে।হেয়াকোঁ বাংলাপাড়া ও মুজিবনগর গ্রামের বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাগানে কাঁঠাল আকার ভেদে প্রতিটি ৩০ টাকা থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এবারও তারা কাঁঠালে ১ লক্ষ টাকা লাভের আশা করেছিলেন। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার হেয়াকোঁ বাজারেই প্রতিবছর দৈনিক লক্ষাধিক টাকার কাঁঠাল বেচাকেনা হয়। এসব কাঁঠাল ট্রাক, জীপে করে নিয়ে যাওয়া হতো দেশের বিভিন্ন পাইকার বাজারে। এলাকার বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত অনেকেই এ মৌসুমে কাঁঠাল ব্যবসা করে কিছু বাড়তি টাকা আয় করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন । তবে এবার অধিক উৎপাদন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বাগান মালিকদেরকে।

সরেজমিনে হেয়াঁকো বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা প্রচুর কাঁঠাল নিয়ে এসেছেন। তবে বাজারে বেচা-কেনা বাড়লেও কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের। তারা বলছে, গত দুই বছরই করোনা ও লকডাউনের কারণে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারিনি। ভাবছি গত দুই বছরের লোকসান এবার পুষিয়ে নিবো কিন্তু এবার বাজারে কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও আশানুরূপ মূল্যে বিক্রি করতে পারছিনা। পাইকাররা বলছে, একদিকে পরিবহনের বাড়তি ভাড়া,অন্যদিকে লেবার খরচও বেশি যার ফলে কাঁঠালের দামের চেয়ে অন্যান্য খরচটা বেশি পড়ছে।জানা যায়, হেঁয়াকো বাজারে চট্টগ্রাম জেলা শহর সহ ফেনী,কুমিল্লা, ঢাকা থেকে পাইকাররা কাঁঠালের জন্য ছুটে আছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলার পাইকাররাও এখান থেকে কাঁঠাল নিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে বিক্রি করে। সাইফুল ইসলাম নামে এক কৃষক জানান, 'তিনি দুই একর জমিতে কাঁঠালের ফলন করেছেন। স্থানীয় এক এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবারো ৪ জন শ্রমিক দিয়ে বাগান পরিচর্যা করেছেন।আবার জমি বন্ধক বাবদও মালিককে অনেক টাকা দিতে হয়েছে। তবে গত দুই বছরই লোকসান দিছে এবারও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না কাঁঠালের।'

হেঁয়াকো বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবলু মজুমদার বলেন, 'মৌসুমী ফল কাঁঠালের সময়কে ঘিরে হেয়াঁকো বাজারে প্রতিদিন হাট বসে। যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভাল ব্যবসা করতে পারে। আম,কাঁঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসে।'এই বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন, 'এবার উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২শ' ৮০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে। এখানকার কাঁঠাল সুস্বাদু হওয়ায় দেশের সর্বত্র এর কদর বেশি।'

এমএসএম / এমএসএম

বেনাপোল বন্দরে কাস্টমসের নেই নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা

লোহাগড়ায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, যুবলীগ নেতার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

শরণখোলায় আমগাছে মিললো দিনমজুরের ঝুলন্ত লাশ

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে অভয়নগরে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি বাসনো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ধামরাইয়ে দুই অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা

চাপাইনবাবগঞ্জে ৫ উপজেলায় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন।

ভূমি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামন। শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, কর্তৃপক্ষ নীরব

‎দলীয় সমর্থনে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিলেন রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যাশী ইসমাইল বিন মনির

কোনাবাড়ীতে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করায় ১০ জেলে আটক, জাল ও ইলিশ জব্দ

রাজারহাটে পৃথক অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার